খড়-কাঠ-মাটিতে ফুটছে দেবীর অবয়ব, চলছে পূজার প্রস্তুতি

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৮

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগরেরা। জেলার কামারখন্দ, উল্লাপাড়া, বেলকুচি, তাড়াশ, রায়গঞ্জসহ প্রতিটি উপজেলায় এখন চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। পূজা যতই ঘনিয়ে আসছে, শিল্পীদের ব্যস্ততাও তত বাড়ছে।

কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট পালপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, খড়, কাঠ, সুতা ও মাটি দিয়ে নিপুণ হাতে প্রতিমা তৈরি করছেন কারিগরেরা। কেউ তৈরি করছেন প্রতিমার কাঠামো, কেউ মাটি দিয়ে ফুটিয়ে তুলছেন দেবদেবীর অবয়ব। কাঠামোর কাজ শেষে এখন চলছে মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ। কোথাও কোথাও প্রতিমা শুকানোর পর রং-তুলির কাজও শুরু হয়েছে। পুরুষদের পাশাপাশি পরিবারের নারী ও শিশুরাও প্রতিমা তৈরির কাজে সহযোগিতা করছেন।

পূজা ঘনিয়ে আসায় অনেক কারিগর নতুন করে প্রতিমার ফরমাশ নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। কারিগরদের ভাষ্য, এ বছর প্রতিমার চাহিদা গত বছরের তুলনায় বেশি হলেও বেড়েছে তৈরির উপকরণের দাম। সে তুলনায় প্রতিমার দাম বাড়েনি।

ভদ্রঘাট পালপাড়ার প্রতিমা তৈরির কারিগর দিলীপ পাল বলেন, ‘প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম ও চাহিদা বাড়লেও প্রতিমার দাম বাড়েনি। তবে চলতি বছর প্রতিমার চাহিদা গত বছরের তুলনায় বেশি।’

আরেক কারিগর শ্রীকান্ত পাল বলেন, ‘আগের মতো মানুষ মাটির তৈরি জিনিসপত্র ব্যবহার না করায় আমাদের প্রায় সারা বছরই অলস সময় কাটাতে হয়। তবে দুর্গাপূজার সময় প্রতিমা তৈরি করে যে আয় হয়, তা দিয়ে কোনোভাবে সারা বছর সংসার চালাই। আবার চলতি বছর প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। কিন্তু ক্রেতারা প্রতিমার দাম বাড়াচ্ছেন না। এতে আমাদের যে পরিমাণ আয় হওয়ার কথা, তা হচ্ছে না।’

প্রতিমা তৈরির কারিগর সুনিতা পাল বলেন, ‘আমরা সাংসারিক কাজের পাশাপাশি প্রতিবছরের মতো এবারও প্রতিমা তৈরি করছি। এ থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনাসহ সংসারের বিভিন্ন খরচ মেটাই।’

কারিগরেরা জানান, চলতি বছর শুধু ভদ্রঘাট পালপাড়াতেই দুই শতাধিক প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। জেলার চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এসব প্রতিমা পাবনা, বগুড়া, নাটোর, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যাবে।

কারিগর সঞ্জীব পাল বলেন, ‘এখানে ১২ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দামের প্রতিমা তৈরি হচ্ছে।’

সিরাজগঞ্জ জেলা ব্রাহ্মণ সংসদের সভাপতি অশোক ব্যানার্জী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে। পাঁচ দিনব্যাপী এ ধর্মীয় উৎসব ২০ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।

জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুকুমার চন্দ্র দাস বলেন, ‘শ্রীশ্রী মা দুর্গা যুগে যুগে বিভিন্ন বিপদে স্বয়ং আবির্ভূত হয়ে দেবতা ও মানুষকে রক্ষা করেছেন। তিনি বিপদনাশিনী। শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে সংগঠনের সব নেতা-কর্মী এবং জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হচ্ছে।’

সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জানান, আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীর পূজার মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে এবং ২০ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব। দেবীর আগমনে বিশ্ব শান্তিময় হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তির উদয় হবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।

ইত্তেফাক/এএইচপি