‘আশা হারিয়ে ফেলেছেন’ নতুন আফগান বর

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৯, ২১:০০

আফগান যুবক মিরওয়াইস এলমির জন্য দিনটি ছিল স্মরণীয়। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছিলেন তিনি। খুব খুশি ছিলেন। কিন্তু এক মুহূর্তে যেন সব তছনছ হয়ে গেল। গত শনিবার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে এলমির বিয়ের অনুষ্ঠানেই আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৬৩ জন নিহত হন। ওই হামলায় নিহত হয়েছেন এলমির ভাই, বন্ধু ও কাছের মানুষেরা।

কাবুলের পশ্চিমাঞ্চলে বিশাল হলঘরে চলছিল বিয়ের অনুষ্ঠান। সাধারণত আফগানিস্তানে বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোয় শত শত অতিথি উপস্থিত থাকেন। অতিথিরা বড়ো কোনো হলঘরে সমবেত হন। এ রকমই এক অনুষ্ঠান হচ্ছিল সেখানে। নারী ও পুরুষ অতিথিদের জন্য ছিল আলাদা বসার ব্যবস্থা। হঠাত্ করেই পুরুষদের বসার স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে। হতাহত হয় বহু মানুষ। আফগান সংবাদমাধ্যমের কাছে শোকবিহ্বল এলমি বলেন, কিছুক্ষণ আগেও যারা হাসছিলেন, শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন, হঠাত্ করে সে সব মানুষের নেই হয়ে যাওয়া যেন মেনেই নিতে পারছেন না তিনি। বলেন, ‘আমার পরিবার, আমার স্ত্রী হতবিহ্বল হয়ে গেছেন। তারা কথাও বলতে পারছেন না। আমার স্ত্রী কিছুক্ষণ পরপর জ্ঞান হারাচ্ছেন। আমার সব আশা হারিয়ে গেছে। ভাই হারিয়েছি, বন্ধু হারিয়েছি, আত্মীয়দের হারিয়েছি। আর কোনোদিনই জীবনের আনন্দ খুঁজে পাব না।’ মানসিকভাবে ভেঙে পড়া মিরওয়াইস এলমি জানান, নিহত আপনজনদের জানাজায় যাওয়ার শক্তিও তার নেই। তিনি বলেন, ‘আমার খুব দুর্বল লাগছে। আমি জানি, আফগানদের জন্য এটাই শেষ নয়, এ রকমটা চলতেই থাকবে।’

এলমির শ্বশুর জানান, ঐ বিস্ফোরণে তার পরিবারের ১৪ সদস্য নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে চিকিত্সারত ঐ বিয়ের এক অতিথি মুনির আহমেদ জানান, সব অতিথি নাচছিলেন। আনন্দ করছিলেন। হঠাত্ করেই বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের পরে পুরো হলঘরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সবাই চিত্কার করছিলেন এবং প্রিয়জনের জন্য কাঁদছিলেন।

উগ্র ইসলামপন্থি জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। হামলায় ৬৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৮০ জন। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি এই হামলাকে বর্বরোচিত বলেছেন।