আইনের স্নাতকোত্তরে প্রথম হয়েও ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের হাত থেকে স্বর্ণপদক নিলেন না সুরভি কারওয়া। প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এক নারী কর্মীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল। তার প্রতিবাদ এবং ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকার প্রতিবাদে কারওয়ার এই সিদ্ধান্তের পরই তোলপাড় আইনজীবী ও বিচারপতি মহলে। বছর পাঁচেক আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গীতশ্রী সরকারও প্রায় একই ভাবে পুরস্কার নিতে অস্বীকার করেছিলেন। সেই ঘটনার ছায়া এ বার দিল্লির জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয়। আনন্দবাজার পত্রিকা
শনিবার জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উত্সবে স্বর্ণপদক দেওয়ার জন্য কারওয়ার নাম যখন ঘোষণা করা হলো, দেখা গেল তিনি অনুপস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক জি এস বাজপাই ফের ঘোষণা করলেন, দুর্ভাগ্যবশত উনি (কারওয়া) এখানে নেই। ওকে আমরা অনুপস্থিত হিসেবে (ইন অ্যাবসেন্সিয়া) মেডেল প্রদান করব।’’ কিন্তু এখানেই থেমে থাকেনি বিতর্ক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ থেকে দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিএন পাটিল, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ছাত্রছাত্রী ও অতিথিদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়। পরে কারওয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করার পর জানা যায় আসল ঘটনা।
এ বছরের এপ্রিলেই প্রধান বিচারপতি গগৈ-এর বিরুদ্ধে এক কর্মীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। ঐ নারী কর্মী ২৯ পাতার একটি এফিডেভিট সুপ্রিম কোর্টের সমস্ত বিচারপতিকে জমা দেন। তার অভিযোগ ছিল, সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত থাকার সময় প্রধান বিচারপতি তাকে যৌন হেনস্থা করেন। কিন্তু ঐ কর্মী প্রতিবাদ করায় তাকে প্রথমে বদলি এবং পরে চাকরি থেকেই বরখাস্ত করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সুপ্রিম কোর্টেরই বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। অভিযোগের সারবত্তা নেই বলে জানিয়ে দেয় ঐ কমিটি।
