ঈদের ছুটিতে একটু স্থবির হয়ে পড়েছিল মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম।
গতকাল এক ধাক্কায় যেনো সে জেগে উঠল। এদিকে অ্যাকাডেমির মাঠে ব্যাট-বলে দাপিয়ে বেড়ালেন হাই পারফরম্যান্স স্কোয়াডের খেলোয়াড়রা। ওদিকে ইনডোর স্টেডিয়াম ভরে উঠল খেলোয়াড়দের বীপ টেস্ট এবং ফিটনেস টেস্টের ভয়াবহ পরিশ্রমে। এর মাঝেও মূল স্টেডিয়ামের মাঠে নেট ঝুলিয়ে ব্যাটিং অনুশীলন সেরে নিলেন কেউ কেউ। আর এই সবকিছুই হলো আসন্ন আফগানিস্তান টেস্ট ও ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজকে সামনে রেখে।
গতকাল শুরু হলো এই দুই সিরিজকে সামনে রেখে প্রাথমিক দলের ক্যাম্প। ক্যাম্পে ছিলেন না দুই অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এবং অলরাউন্ডার সাব্বির রহমান রুম্মন। এছাড়া তরুণ যে ক্রিকেটারদের ডাকা হয়েছে, তারা এইচপি দলের সঙ্গে থাকায়, তারাও প্রথম দিনে পরীক্ষা দিতে আসেননি। যারা ফিটনেস পরীক্ষা দিয়েছেন, তাদের কারো ব্যাপারে আলাদা করে কিছু বলেননি ক্যাম্পের প্রধান, ট্রেনার মারিও ভিল্লাবারায়ন। তবে এটুকু বললেন যে, দীর্ঘদিন ফিটনেস ক্যাম্প না হওয়ায় সবারই ফিটনেসের কিছু পতন হয়েছে।
সবাইকে যে অনেক উন্নতি করতে হবে, সেটা বলতে গিয়ে মারিও বলছিলেন, ‘আট মাস পর ওদের ফিটনেস টেস্ট হলো। গত অক্টোবর থেকে অবিরত ক্রিকেট খেলছি। আমার কাছে ব্যাপারটা ছিল, খেলোয়াড়দের দেখা যে, ওরা কী অবস্থায় আছে। সামনের মাসটা জুড়ে ওদের কতটুকু ধাক্কা দিতে হবে, সেটা দেখলাম। যদি বলি, আসলে আমি সন্তুষ্ট। কিন্তু খুশি নই। তাদের উন্নতি করতে হবে।’
সবাইকে যে উন্নতি করতে হবে, তার কারণ হলো, সবাই কমবেশি পিছিয়েছেন। আর এই পেছানোটাকে অস্বাভাবিক মনে করছেন না মারিও। তিনি বলছিলেন, ‘এটা আসলে যৌক্তিক। কারণ, গত আট মাস ধরে আমাদের ফিটনেস ক্যাম্প হচ্ছে না। সে তুলনায় ওরা খুব খারাপ অবস্থায় নেই। ফলে এই হিসেবে আমি ছেলেদের নিয়ে খুশি আছি।’
তবে সব খেলোয়াড়ের একই ধরনের কাজ করতে হবে, তা নয়। আলাদা আলাদা খেলোয়াড়কে আলাদা আলাদা কাজ করতে হবে বলে বলছিলেন ট্রেনার, ‘রানিং, স্কিল, স্ট্রেংথ ফিটনেসে কে কোথায় আছে সেটা জানতে হবে। যেখানে যেখানে কাজ করা দরকার সেখানে কাজ করতে হবে। কিছু খেলোয়াড়ের কাজ করা দরকার, আবার যারা ভালো অবস্থায় আছে তাদের আরো উন্নতি করতে হবে।’
তবে কাকে কাকে বেশি উন্নতি করতে হবে, সেটা বলতে চাইলেন না মারিও। তিনি বললেন, উন্নতিটা সবাইকে করতে হবে, ‘কারো নাম বলতে চাই না। সবাইকে উন্নতি করতে হবে। যারা উন্নতি করেছে তাদের আরো ভালো করতে হবে।’
এই কদিনের ক্যাম্পে সব উন্নতি হয়ে যাবে, তাও মনে করেন না এই লঙ্কান ট্রেনার। তিনি বলছিলেন, ‘মনে করি না এটা যথেষ্ট। এই চার দিনে হয় না, অন্তত ৫-৬ সপ্তাহ লাগে। কিন্তু আমাদের সামনে অনেক খেলা। এত সময় নেই। উন্নতি করতে হলে স্কিলের পাশাপাশি ফিটনেস নিয়েও কাজ করে যেতে হবে।’
ইদানিং বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে বেশি কথা হওয়ার কারণ ফিল্ডিং। তবে মারিও মনে করেন না বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণ ফিটনেসের অভাব, ‘বলতে পারি না যে এ কারণে বাজে ফিল্ডিং। এটা বলা অন্যায় হবে যে ফিটনেসের কারণে ক্যাচ হাতছাড়া হয়েছে।’
