ফিট হওয়ার আশা স্মিথের

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৯, ২১:০৬

লর্ডস টেস্টের পঞ্চম দিন মাঠেই নামা হয়নি স্টিভেন স্মিথের। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে তিনি রয়ে যান মাঠের বাইরে। যদিও, হেডিংলিতে তৃতীয় টেস্টের আগেই তিনি ফিরে আসার ব্যাপারে আশাবাদী।

বিবিসিকে স্মিথ জানিয়েছেন, শতভাগ ফিট হয়েই তিনি ফিরতে চান মাঠে। আগামী ২২ আগস্ট শুরু হবে তৃতীয় টেস্ট। সেই ম্যাচকে সামনে রেখে স্মিথ বলেন, ‘অবশ্যই, এটা আমার জন্য দুশ্চিন্তার ব্যাপার। আমি শতভাগ ফিট হয়েই মাঠে নামতে চাইবো।’

সেঞ্চুরি করলেই অনার্স বোর্ডে নাম ওঠানোর একটা রীতি লর্ডসে মানা হয়। স্টিভেন স্মিথ সেই পথেই হাঁটছিলেন। কিন্তু, পথের কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ইংলিশ পেসার জোফরা আর্চারের একটা মারাত্মক বাউন্সার। সেই আঘাতে স্মিথ যখন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, রান ৮০। ফিরে এসেছিল অকালে পরপারে পাড়ি জমানো ফিলিপ হিউজের স্মৃতিও। ঘটনাটি ঘটে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ৭৭তম ওভারে।

স্মিথ অবশ্য ড্রেসিংরুমে ফিরে শুশ্রুষা নিয়ে ফিরেছেন। শেষ অবধি সেঞ্চুরির দেখা পাননি তিনি। আউট হওয়ার আগে করেন ৯২ রান। ১৬১ বলের লড়াকু এ ইনিংসে ছিল ১৪টি চার। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ২৫০ রানে গিয়ে।

পরদিন সকালে আর মাঠে নামাই হয়নি তার। তবে, লর্ডসের পঞ্চম দিনে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়নি অস্ট্রেলিয়াকে। টেস্ট ইতিহাসের প্রথম বদলি ক্রিকেটার হিসেবে গতকাল একাদশে রাখা হয়েছিল মার্নাস লাবুশেন। গত ১৯ জুলাই আইসিসি নতুন এক আইন জারি করে জানিয়েছে, মাথায় আঘাত পাওয়া ক্রিকেটারের বদলি নামানো যাবে। এ নিয়মে প্রথম সুবিধা পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া দল। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘুমটা ভালো হলেও ওঠার পর থেকে একটু মাথা ব্যথার সঙ্গে ঝিমুনিও হচ্ছিল স্মিথের। তাই তাকে নিয়ে আর ঝুঁকি নেই।

পঞ্চম দিন মাঠে না থাকতে পেরে আক্ষেপ নেই ৩০ বছর বয়সী স্মিথের। তিনি বলেন, ‘যেসব ডাক্তারী পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আমাকে যেতে হয়েছে, আর যেভাবে আমি সকালে ঘুম থেকে উঠেছি - তাতে মনে হয়েছে ওটাই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। সুযোগ থাকলে খেলতে কে না চায়।’

সিএ-জানিয়েছে, মস্তিষ্কের ভেতরে কোনো সমস্যা হয়নি স্মিথের। তবে, সতর্কতার খাতিরে হেডিংলি টেস্ট পর্যন্ত তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। রোববার তার গলাতেও স্ক্যান করা হয়।

স্মিথ অবশ্য হেডিংলিতে খেলতে মরিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই খেলতে চাই। অস্ট্রেলিয়াকে আরেকটি টেস্ট জিততে অবদান রাখতে চাই। তার জন্য সামনের কয়েকটা দিন আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটা দিন আমাকে ডাক্তাদের পরামর্শমাফিক চলতে হবে। আশা করি, আমি সমস্যাটা কাটিয়ে উঠতে পারবো।’

স্মিথের পরিবর্তে মাঠে নেমে অবশ্য বাজিমাত্ করেছেন লাবুশেন। ১০০ বলে ৫৯ রানের অপরাজিত এক ইনিংস খেলেছেন তিনি। ছয় উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রান করে দলটি। এর ফলে ড্র মেনে নেয় দু’দলই। ১৯৯৭ সালের পর এবারই প্রথমবারের মত লর্ডসে কোনো টেস্ট ড্র হল।

বার্মিংহ্যামের প্রথম টেস্টটায় ২৫১ রানের বড় ব্যবধানে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। এর ফলে দুই ম্যাচ শেষে এখন টিম পেইনের দল ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে।