হাতেগোনা কদিনই বা হয়েছে। মাত্রই তো নারী হকির পুনরায় নতুন যাত্রা শুরু হচ্ছে। সত্তর দশকের পর আবার দেশে নারী হকির চর্চা শুরু। এমন এক সময় শুরু হচ্ছে যখন কোনো রকমে অনুশীলন করেই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে হবে। আগামী মাসে সিঙ্গাপুরে এশিয়ান হকি ফেডারেশন অনূর্ধ্ব-২১ নারী হকি অনুষ্ঠিত হবে।
সেখানে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের সঙ্গী চীন, হংকং, নেপাল। সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগে বাংলাদেশের মেয়েরা অনেক দিন ধরে অনুশীলন করলেও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মতো পুরো প্রস্তুত, সে কথাও বলা যাবে না। তারপরও নারী হকির শুরুটা যদি করা যায় তাহলে একটা সময় লক্ষ্য পূরণের পথে হাঁটতে পারবে বাংলাদেশের মেয়েরা।
নানা হিসাব-নিকাশের অঙ্ক কষে মেয়েদের হকি অনুশীলনের জন্য ভারতীয় জাতীয় একাডেমীর মেয়েদের দলকে ঢাকায় আনা হয়েছে। বাংলাদেশের মেয়েদের বিপক্ষে ভারতীয় মেয়েদের মধ্যে ছয়টি প্রস্তুতি ম্যাচ হবে হকি স্টেডিয়ামে। আজ প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ বিকাল ৪টায়।
ভারতীয় জাতীয় একাডেমির কোচ অজয় কুমার বানসাল দল নিয়ে এসেছেন। তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশ হকির মেয়েদের উপদেষ্টা। তিন-চার দিন বাংলাদেশের মেয়েদের অনুশীলন দেখেছেন। তার সেই অভিজ্ঞতার কথা কাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন অজয় কুমার। বললেন, ‘ঢাকায় আসার আগে ভয়ে ছিলাম। দলটা কেমন হবে বা কতটুকু এগনো যাবে। এখন দেখে মনে হলো প্রতিভা আছে। এই মেয়েদের ভালো সুযোগ আছে।’
বাংলাদেশের মেয়েরা জানে তাদের উপদেষ্টা কোচ এসেছেন। তবে যখন জানতে পারলেন ঢাকায় আসার আগে ভারতীয় নারী হকি খেলোয়াড়রা দক্ষিণ কোরিয়া সিরিজ খেলে এসেছে। তাদের সম্পর্কে ধারণাটা আরো উঁচুতে চলে গেল। বানসাল বললেন, ‘আমি ছয়টি ম্যাচকে প্রস্তুতির ম্যাচই দেখছি। এখানে হারজিতের কোনো বিষয় নেই। ভারতের মেয়েরা সারা বছর অনুশীলন করে। আর বাংলাদেশের মেয়েরা মাত্রই অনুশীলন করছে। এখনো অনেক দূর যেতে হবে।’
ছয় ম্যাচের মধ্যে দু-তিন ম্যাচ শেষেই ১৮ জনের নাম নির্ধারণ করা হবে যারা সিঙ্গপুর যাবেন। সব কয়টি ম্যাচ ভিডিও করা হবে এবং মেয়েদেরকে দেখানো হবে। চারজন নারী খেলোয়াড় সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন। এদের মধ্যে সাদিয়া খানম জানালেন, ভারতের যে মেয়েদের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা হবে সেখানে দুই তিনটি ম্যাচ জেতার সুযোগ থাকবে। সাদিয়ার সঙ্গে অন্য মেয়েদের আত্মবিশ্বাসটা আরো বেশি। বলছিলেন, ‘লড়াই করব ভারতের সঙ্গে।’ দুই সপ্তাহের জন্য ভারতীয় উপদেষ্টা রাখা হলেও দেশি কোচ সাবেক খেলোয়াড় তারিকুজ্জামান নান্নু এবং আরেক সাবেক খেলোয়াড় হেদায়েতুল ইসলাম রাজিব।
