জরুরি গ্যাসের চাহিদা পূরণে দরপত্র ছাড়াই ১৮ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:১৯

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ও মজুদ কমে যাওয়ায় দরপত্র ছাড়াই সরাসরি এলএনজি ও জ্বালানি আমদানির বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জরুরি গ্যাসের চাহিদা পূরণের অংশ হিসেবে ফরাসি বহুজাতিক শক্তি কোম্পানি টোটাল এনার্জিস থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে চলতি অর্থবছরের অক্টোবর থেকে জুন পর্যন্ত প্রতিমাসে দুটি করে মোট ১৮ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই এলএনজি ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনে উভয় পক্ষের সম্মতিতে আরও অতিরিক্ত কার্গো এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত আগস্ট মাসেও দরপত্র ছাড়াই কয়েক দফায় ২২ কার্গো এলএনজি এবং ৫ হাজার টন এলপিজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

এদিকে জ্বালানি আমদানির এই ধারাবাহিকতায় একই দিনে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ডিজেল, ফার্নেস অয়েল ও জেট ফুয়েল আমদানির বেশ কিছু প্রস্তাব অনুমোদন ও পর্যালোচনার জন্য আসে। সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত কোম্পানি ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেড এবং ভাইটল এশিয়া থেকে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও জেট ফুয়েল কেনার প্রস্তাব রয়েছে।

এর মধ্যে ট্রাফিগুরা থেকে ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টন ডিজেল এবং ৫০ হাজার টন জেট ফুয়েল কেনার জন্য ৪ হাজার ৮০৩ কোটি টাকার প্রস্তাব এবং ভাইটল এশিয়া থেকে ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল ও ৪০ হাজার টন জেট ফুয়েল কেনার জন্য ৪ হাজার ৩২৬ কোটি টাকার প্রস্তাব উঠে আসে।

পাশাপাশি ইউনিপে সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড থেকে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টন ডিজেল (৭৯২ কোটি টাকা), ভাইটল এশিয়া থেকে অতিরিক্ত ৫০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টন ডিজেল (১ হাজার ১৯০ কোটি টাকা) এবং ট্রাফিগুরা থেকে ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ টন ফার্নেস অয়েল (৮০১ কোটি টাকা) আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই জ্বালানিগুলো কেনার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত প্রিমিয়াম এবং রেফারেন্স মূল্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দরদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে চূড়ান্ত দর ঠিক করে তা পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএম