টাকার বিছানায় শুয়ে ভাইরাল এই তরুণী, এতো টাকার নেপথ্যে কী?

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১৩:৪৮

ভারতের উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে ডেটিং অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পুরুষদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার পর অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেল করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, এভাবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি রুপি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা।

শনিবার (৮ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত তরুণীর নাম পল্লবী সিংহ রাজপুত। হাই কোর্টের এক আইনজীবী তার বিরুদ্ধে যৌনতার ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেল ও টাকা আদায়ের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

পল্লবী বহু পুরুষকে নিজের রূপের জালে ফাঁদে ফেলতেন। কখনও বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ নিয়ে ছবি ও ভিডিও তুলে রাখতেন, পরে সেগুলো দিয়ে শুরু হতো লাগাতার ব্ল্যাকমেল বলে দাবি করেন আইনজীবী। 

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলাহাবাদ হাইকোর্টের এক আইনজীবীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কথিত এই চক্রের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগে পল্লবী সিং রাজপুত নামের এক নারীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, পল্লবী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে পুরুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। প্রথমে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা হতো। পরে দেখা করার পরিকল্পনা করে কৌশলে তাঁদের অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা হতো।

অভিযোগ, এসব ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে পরে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হতো। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো।

অভিযোগকারীদের দাবি, ওই নারীর করা কথিত মিথ্যা মামলায় অন্তত পাঁচজন ইতোমধ্যে কারাভোগ করেছেন। আইনি ঝামেলা ও সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আশঙ্কায় ভুক্তভোগীদের অনেকে বাধ্য হয়ে অর্থ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পল্লবীর দুটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বিছানায় ছড়ানো ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিলের পাশে শুয়ে আছেন তিনি। অন্য ছবিতে তার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে। তবে এসব ছবির সত্যতা ও উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, নতুন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে পল্লবী সুইটি তিওয়ারিসহ একাধিক ছদ্মনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই কথিত ব্ল্যাকমেল ও অর্থ আদায়ের কাজে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী তাকে সহযোগিতা করতেন।

এদিকে অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটির সত্যতা যাচাই এবং পুরো চক্রের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে প্রয়াগরাজ পুলিশ।

 

 

 

 
ইত্তেফাক/এনটিএম