সার সরবরাহ নির্বিঘ্নে ৬৪ জেলায় মনিটরিং সেল গঠন

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৯

দেশের ৬৪ জেলায় সার মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সারাদেশে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে পাবনা-১ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান কার্যপ্রণালী বিধির ৬৮ বিধিতে সার সংকট নিয়ে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার সূত্রপাত করলে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।না-১ আসনের মোহাম্মদ নজিবুর রহমান অংশ নেন।

দেশে সারের চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার টন জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে মজুত রয়েছে ৫১ লাখ ৭১ হাজার টন। ফলে দেশে প্রায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার টন সার উদ্বৃত্ত থাকবে। সার বিতরণ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে দেশের প্রতিটি মনিটরিং সেল দু’জন করে যুগ্মসচিব ও উপ-সচিবের তত্ত্বাবধানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে, দেশের যেকোনো স্থান থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে মনিটরিং সেলগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

সার ডিলার নিয়োগ প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের মাধ্যমেই এতদিন সার ডিলারশিপ পরিচালিত হয়ে আসছে। এসব ডিলারের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৭৫৯ জন পালিয়ে গেছে। ফলে এসব স্থানে বর্তমানে ডিলারশিপ শূন্য রয়েছে।

শূন্য ডিলারশিপ পূরণে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকার আরও ৪ হাজার ৯১৮ জন নতুন ডিলার নিয়োগ দেবে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব ডিলার নিয়োগের পর প্রত্যেক ডিলার ইউনিয়ন পর্যায়ে আরও দুজন করে অতিরিক্ত ডিলার নিয়োগ করবেন। এভাবে ডিলার সফলভাবে নিয়োগ দেওয়া হলে সার ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হবে এবং সারাদেশে সুষ্ঠু সার সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

সার সংকটের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে আমন ধান পাকা পর্যায়ে রয়েছে। তাই কৃষকদের মধ্যে সারের ব্যাপক চাহিদা নেই। কৃষকরা আসন্ন বোরো মৌসুমের জন্য এখন সার কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন। এ কারণে দেশে নন-ইউরিয়া সারের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার এখনো নতুন ডিলার নিয়োগ দেয়নি। কারণ, ডিলার নিয়োগের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর। 

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

তিনি জানান, ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ইউরিয়ার মজুত ৪ লাখ ১৮ হাজার টন, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ৩ লাখ ৪৩ হাজার টন, ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ৩ লাখ ২ হাজার টন এবং মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯০০ টন। এ ছাড়া পরিবহনের পথে রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ২০০ টন টিএসপি, ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ টন ডিএপি এবং ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ টন এমওপি।

তিনি বলেন, বর্তমানে সারাদেশে ১ হাজার ১০৫ জন মূল ডিলার এবং ৩১ হাজার ৬০০ জন খুচরা ডিলার রয়েছেন। আরও ৮ হাজার ৬৮৭ জন নতুন ডিলার এবং ১৬ হাজার খুচরা ডিলার নিয়োগ করা হলে সার বিতরণ ব্যবস্থা আরও নির্বিঘ্ন হবে।

 

ইত্তেফাক/পিএস