সংকটে কলারোয়ার টালি শিল্প

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৭

রপ্তানিতে অপার সম্ভাবনাময় হলেও সাতক্ষীরার কলারোয়ার মুরারীকাটি গ্রামের টালি শিল্প এখন সংকটের মধ্যে রয়েছে। বিদেশে চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি অসম প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না এখানকার রপ্তানিজাত টালি কারখানাগুলো। ফলে পাঁচ বছরের ব্যবধানে বন্ধ হয়ে গেছে ৪০টি কারখানা।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০০ সালে কলারোয়া উপজেলা সদরের মুরারীকাটি গ্রামের কয়েকটি কুমার পরিবার এই রপ্তানিজাত মাটির টালি উত্পাদন শুরু করে। এরপর ২০০৪ সালের দিকে ইতালিয়ান আমদানিকারক ব্যবসায়ী রাফাইলী আলদো প্রথম মুরারীকাটি থেকে গৃহনির্মাণে শোভাবর্ধন টালী আমদানি করেন। এসব টালির মধ্যে রয়েছে রিক্ট এ্যাংগুলার, হেড ড্রাগুলার, স্কাটিং, স্টেম্প, স্কয়ার, রুপ, ব্রিকস্ ও ফ্লোর টালি। টালি বিদেশে রপ্তানি শুরু হওয়ায় মুরারীকাটি গ্রামের অধিকাংশ কুমার সম্প্রদায়ের পরিবারগুলো আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে থাকে। পরবর্তীকালে এটি আর কুমারদের হাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। মুরারীকাটি গ্রামের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবারই রপ্তানিজাত মাটির টালি উত্পাদনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। আশপাশের অনেক নারী ও পুরুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয় এই শিল্পের মাধ্যমে। একপর্যায়ে মুরারীকাটি গ্রামের রপ্তানিজাত টালি শিল্পে খুব রমরমা ভাব যায়। কিন্তু বিগত পাঁচ বছরের ব্যবধানে উত্পাদনশীল প্রায় ৫০টি কারখানার মধ্যে অন্তত ৪০টি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে নিভু নিভু অবস্থায় টিকে রয়েছে ১০টি কারখানা।

সর্বপ্রথম রপ্তানিজাত টালি উদ্যোক্তা ঐ গ্রামের গোষ্ট পদ পাল জানান, মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে হারিয়ে যেতে বসেছে এখানকার টালি শিল্প। বিদেশে চাহিদা না থাকায় এখন একেকটি টালির উত্পাদন খরচ উঠানোই মুশকিল হয়ে পড়েছে। ২০১৬ সালের পর থেকে ৪০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, এর অন্যতম কারণ হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি টালির বিপণন ব্যবস্থা না থাকা এবং টালি শিল্পে আধুনিকায়ন না হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি নীতিমালা না করা। বর্তমান এখানে কমপক্ষে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামীণ নারী ও পুরুষ শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়ে ফেলেছে।

সাতক্ষীরা শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু জানান, চিংড়ি রপ্তানির মতোই বেশ সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছিল মুরারীকাটি গ্রামের টালি শিল্প। নানা সংকটে আজ সেই সম্ভাবনাময় শিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে পারলে উদ্যোক্তারা যেমন লাভবান হতো তেমনি সরকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারত।