রায়পুরে কাভার্ড ভ্যানে অবৈধ ভ্রাম্যমাণ সিএনজি স্টেশন!

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৮

রায়পুর উপজেলা ঢাকা-রায়পুর অঞ্চলিক মহাসড়কে কাভার্ড ভ্যানে অবৈধভাবে ভ্রাম্যমাণ সিএনজি (রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস) বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে নির্বিঘ্নে এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সিংহেরপুল নামক স্থানে সড়কের সাথে অবৈধভাবে কাভার্ড ভ্যানে রাখা সিলিন্ডার থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে প্লাস্টিক পাইপ দিয়ে ভাসমান সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস বিক্রি করা হয়। গত ১৫ দিন ধরে মহাসড়কের পাশে দু’টি কাভার্ড ভ্যান সব সময় ঐ স্থানে দাঁড়ায়, আর জড়ো হতে থাকে গাড়ি। এক পর্যায়ে গাড়ির দীর্ঘসারির কারণে সড়কে সৃষ্টি হয় যানজটও।

সারাদেশে সিএনজি গ্যাস স্টেশনগুলোতে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত গ্যাস বিক্রি বন্ধের নির্দেশনা দিলেও রায়পুরে এ স্টেশনে ২৪ ঘণ্টাই মেলে প্রতি লিটারে অতিরিক্ত ৯ টাকা বেশি দামে সিএনজি গ্যাস। এ ছাড়াও সিএনজি স্টেশন করার আগে ফায়ার সার্ভিস ও বিস্ফোরক লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু তাদের রায়পুর সিংহেরপুরে স্থাপিত ভ্রাম্যমাণ সিএনজি স্টেশনের এসব কিছুই নেই। ট্রাকভর্তি সিলিন্ডার থেকে যেভাবে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো মুহূর্তে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় অটোরিকশাচালক রুবেল দাশ, সেলিম উদ্দিন, পারভেজ, আব্দুর সালাম, বোরহান উদ্দিন, আব্দুর শুক্কুরসহ অনেকে বলেন, বৈধ ফিলিং স্টেশনে প্রতিপয়েন্ট (লিটার) সিএনজি বিক্রি হয় ৪০ থেকে ৪১ টাকা টাকায়। আর কাভার্ড ভ্যানে প্রতিপয়েন্ট (লিটার) গ্যাসের দাম ৫২ টাকা। অতএব অতিরিক্ত  ৯ টাকা বেশি দিতে হয়।

কোম্পানির পরিচালক মজিবুর রহমান বলেন, সড়কের পাশে এটি থাকলে সিএনজি চালকরা দ্রুত গ্যাস নিতে পারে। মানুষের সেবা করার জন্যই এটি করছি আমরা।

রায়পুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, এ ভাবে কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস বিক্রির জন্য আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। কোনো অনুমোদন আছে কী না সে বিষয় আমার জানা নেই। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনি প্রক্রিয়ায় কতিপয় দুষ্কৃতকারী ভাসমান প্রক্রিয়ায় গ্যাস বিক্রি করছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রায়পুর পৌর মেয়র ইসমাইল খোকন বলেন, একটি অঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে চলছে ঝুঁকিপূর্ণ ওই ব্যবসা। এতে যে কোনো মুহূর্তে বিপদ হতে পারে। এতে বিশেষ করে পাশের বিভিন্ন ব্যবসা প্র্রতিষ্ঠানের দোকানি ও শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ ছাড়া এসব কাভার্ড ভ্যানের কারণে সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণভাবে অবৈধ।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা বাবু শান্তি বলেন, এই ব্যাপারে আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। কোনো অনুমতির কাগজপত্রও জমা দেয়নি তারা। এ ব্যাপারে আমি খুব শিগিগরই অভিযান পরিচালনা করব। এখানে অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রি করতে দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক শামছুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, ভাসমান গ্যাস বিক্রয় কেন্দ্রগুলো বন্ধে জেলার ডিসি, এসপি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসির কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এসব কাভার্ড ভ্যান যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানে তা জব্দ করে থানায় আটক করা যাবে। নিয়মনীতি না মেনে কোনো গ্যাস এক সিলিন্ডার থেকে অন্য সিলিন্ডারে নিতে পারে না। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনি।