চ্যাটজিপিটিতে একটি প্রশ্ন করার সময় প্রায় ০.০০০০৮৫ গ্যালন পানি খরচ হয়, যা এক চামচের প্রায় ১৫ ভাগের এক ভাগ। একই সঙ্গে প্রতিটি প্রশ্নে গড়ে ০.৩৪ ওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎও ব্যবহার হয় বলে জানিয়েছেন ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যান।
ডেটা সেন্টার ও এআই অবকাঠামোবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ডেটা সেন্টার ডায়নামিকস (ডিসিডি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
অল্টম্যান এক ব্লগ পোস্টে বলেন, ‘গড় একটি প্রশ্নে প্রায় ০.৩৪ ওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ হয়। এটি একটি ওভেন এক সেকেন্ডের একটু বেশি সময় চালালে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, তার কাছাকাছি। অথবা উচ্চ দক্ষতার একটি লাইটবাল্ব কয়েক মিনিট জ্বালিয়ে রাখার সমান।’
তিনি জানান, একটি প্রশ্নে প্রায় ০.০০০০৮৫ গ্যালন পানি ব্যবহার হয়।
তবে এই হিসাবের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ‘গড় প্রশ্ন’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তুলনামূলক বেশি শক্তি প্রয়োজন এমন ডিপ রিসার্চ ধরনের প্রশ্ন এই হিসাবের মধ্যে রয়েছে কি না, সেটিও জানা যায়নি। এ ছাড়া চ্যাটজিপিটির মডেল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বড় পরিসরের প্রশিক্ষণে যে বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহার হয়, তা এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।
চ্যাটজিপিটি পরিচালনায় ওপেনএআই বর্তমানে মাইক্রোসফট অ্যাজুরের বিভিন্ন ডেটা সেন্টার ব্যবহার করে। এসব ডেটা সেন্টারের বয়স, শীতলীকরণ ব্যবস্থা, অবস্থান ও স্থানীয় তাপমাত্রা ভিন্ন হওয়ায় পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণেও পার্থক্য হতে পারে।
স্টারগেট প্রকল্প এবং ওরাকল ও গুগলের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে ওপেনএআইয়ের ব্যবহৃত ডেটা সেন্টারের ধরন আরও বাড়বে। একইভাবে নতুন প্রজন্মের জিপিইউ ব্যবহারের পাশাপাশি পুরোনো হার্ডওয়্যারও চালু থাকবে। এসব বিষয়ও বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারের পরিমাণে প্রভাব ফেলবে।
স্যাম অল্টম্যান জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রতিদিন কয়েক কোটি মানুষ চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছেন। তবে একজন ব্যবহারকারী গড়ে কতটি প্রশ্ন করেন, তা স্পষ্ট নয়। ফলে একটি প্রশ্নে পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ কম হলেও বিপুল সংখ্যক প্রশ্নের কারণে সামগ্রিক ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
ডিসিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওপেনএআইসহ বিভিন্ন এআই প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ ও ইনফারেন্সের জন্য বিপুল পরিমাণ হার্ডওয়্যার স্থাপনের প্রতিযোগিতা বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ তৈরি করছে। এর ফলে কিছু প্রতিষ্ঠান গ্যাস ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানির ওপরও নির্ভরতা বাড়াচ্ছে।
সোর্স: ডেটা সেন্টার ডায়নামিকস

