যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরান আবারও আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও সংযোজন শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির বিভিন্ন এলাকার ভূগর্ভস্থ গোপন স্থাপনাগুলোতে মজুত থাকা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সমান্তরালভাবে কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজও চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।
গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের খোজির ক্ষেপণাস্ত্র কারখানাসহ বেশ কয়েকটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় এই কার্যক্রম চলছে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য হামলা এড়াতে নতুন ভূগর্ভস্থ কারখানা নির্মাণেরও চেষ্টা চালাচ্ছে তারা।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা মার্কিন প্রশাসনের পূর্ববর্তী সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল দাবি করেছেন, যুদ্ধের জন্য নির্ধারিত সমস্ত সামরিক লক্ষ্য মার্কিন বাহিনী সফলভাবে অর্জন করেছে।
তিনি জানান, প্রতিটি সামরিক সূচকেই ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে এবং সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পাশাপাশি ইরানর ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌ-শিল্পভিত্তির প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ধ্বংস করে দিয়েছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও দাবি করেছিলেন যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে।
জর্ডানের ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা:
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি করা হলেও, তেহরান যে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির অনেকটাই পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়েছে তার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে সম্প্রতি। গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সেনা অবস্থানরত একটি সামরিক ঘাঁটিতে একাধিক আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। এই হামলার মধ্য দিয়ে মার্কিন দাবির বিপরীতে ইরানের সামরিক শক্তি ও হামলার সক্ষমতা নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ কেড়েছে।

