বাংলাদেশে নাও হতে পারে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০১

জাতীয় ফুটবল দল অনুশীলনে ব্যস্ত। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ লক্ষ্য রেখে বাংলাদেশের ফুটবলাররা ফিফা আসিয়ান কাপ ফুটবলে খেলতে ইন্দোনেশিয়ায় যাবে। সেখান থেকে এসে ঢাকায় সাফের জন্য নেমে যাবেন ফুটবলাররা। আগামী ৪-১৭ নভেম্বর বাংলাদেশে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। আদৌ কী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ হবে। নাকি অন্য কোথাও সাফ চলে যাবে। অন্য কোনো দেশে, নতুন কোনো ভেন্যুতে যাবে সাফ। আশঙ্কা গভীর হচ্ছে। 

একটা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মতো বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে বাফুফের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। সাফের ম্যাচ আয়োজন করতে সাফের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার কথা। কিন্তু সেটি হয়নি। এখন পর্যন্ত সাফ ও বাফুফের মধ্যে চুক্তি না হওয়ার সুযোগে অন্যান্য দেশ সাফ আয়োজনের বিষয়ে নজর রাখছে বলে জানা গেছে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে সাফের খেলা হবে কি হবে না, তা নিয়ে অন্যান্য দেশের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় তারা আয়োজক হওয়ার সুযোগ নিতে চায়।

বাফুফের সাংগঠনিক দুর্বলতায় কী সাফ আয়োজন হাতছাড়া হবে? বাফুফের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, 'আমরা (বাফুফে) শুধু সাফের প্রতিদিনের খেলাটা আয়োজন করব। সাফের খেলাটা তুলে দেওয়া। চুক্তি হয়নি, হয়ে যাবে।' এ বিষয়ে সাফের সম্পাদক নেপালের পুরুষত্তোম ক্যাটেলকে ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।

গত ২৫ জুলাই ঢাকায় ঘটা করে সাফের টাইটেল স্পন্সর হিসাবে টেকনো প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আর ভুটানে সাফে ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আর কোনো খবর নেই। আয়োজক বাফুফে এবং সাফ এর মধ্যে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তিও হয়নি। আগেই আলোচনা হয়েছিল সাফের প্রতিদিনের ম্যাচ বাফুফে আয়োজন করবে। আর বাকি সব কাজ সাফের। 

অংশগ্রহণকারী দেশের বিমান ভাড়া, হোটেল খরচ, টিভি রাইটসসহ অনুষাঙ্গিক গুরুত্বপূর্ণ যা কিছু আছে সবই সাফ অফিস দায়িত্ব পালন করবে। সবকথা ঠিকঠাক রেখেও বাফুফে এসব কাজে ভাগ বসাতে চায়। 'এখন আমাদের কর্মকর্তারা সাফের কাছে আবদার করছে বাফুফেকে টিভি রাইটস দিতে হবে। এটা চায়, ওটা চায়। আজ একটা আবদার করে কাল আরেকটা অনুরোধ করে, আমরা বাফুফে হতে কোনটা চাই সেটা নিজেরাও সঠিকভাবে স্থির করতে পারছি না।' 

বাফুফের আরেক কর্মকর্তা বলেন অর্থসংক্রান্ত যা কিছু আছে তা সাফ করবে। কিন্তু আমরা বাফুফে হতে আরও কিছু দায়িত্ব গ্রহণ করতে চাই, এটা আমাদের চাওয়ার কথা ছিল না।' তার দাবি আসলে প্রতিদিন নতুন নতুন একটা আবদার করতে গিয়ে বাফুফে এবং সাফের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করতে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হচ্ছে। চার সপ্তাহ ধরে শুধু আলোচনাই চলছে। বাফুফে নতুন নতুন চাওয়া নিয়ে হাজির হচ্ছে। আর তাতে থমকে আছে সাফ আয়োজনের পরিকল্পনা।

বাফুফের আরেকটি সূত্রের খবর হচ্ছে সাফে খেলতে পারেন হামজা চৌধুরী। তার খেলা মানেই দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়বেন। টিকিট চাহিদা বেড়ে যাবে। সাফের ২৫ ভাগ টিকেটের দাবি বাফুফের। আবার অন্য দিকে বলা হচ্ছে প্রতি ম্যাচের ৫ হাজার টিকিট বাফুফেকে দিতে হবে। সাফ নিয়ে বাফুফে হতে নীতি নির্ধারক মহল কথা বলবে। কিন্তু এখানে সাফের সঙ্গে কথা বলতে এমন একজনকে পাঠানো হয় যে কিনা বাফুফের সদস্য না। 

এ কর্মকর্তারা জানান 'কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত হওয়া বাফুফের নির্বাহী কমিটিতে আমাদের মতো এতো কর্মকর্তা থাকতে কেন কমিটির বাইরের অন্য কাউকে সাফের অফিসে কথা বলতে পাঠানো হবে। সে যার ভাই হোক। এখানে ভাইয়ের পরিচয় বড় কথা নয়। সাফের সঙ্গে কথা বলবেন নীতি নির্ধারকদের মধ্যে হতে। তাহলে আমরা কেন নির্বাচিত হয়ে এসেছি।'

ইত্তেফাক/জেডএইচ