প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুধ নিয়ে অপপ্রচার চালানোতে দেশে খামারি ব্যবসা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এটি দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। দেশে যেসব গুঁড়া দুধ আসে তাও পরীক্ষা করা উচিত। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠক সূত্র ইত্তেফাককে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সঠিকভাবে পরীক্ষা না করে যারা এ জাতীয় বিভ্রান্তি ছড়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ রিট করে না। এ ব্যাপারে কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাকের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।
পর্যায়ক্রমে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দুপুরের পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হবে। খাবার হিসেবে বিস্কুট, রান্না করা খাবার বা ডিম, কলা খাওয়ানো হবে। এ ব্যবস্থা রেখে ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি ২০১৯’র খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৯, প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত নীতিমালার খসড়া, তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা তৈরিতে আর্থিক সহায়তায় ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ আইনের খসড়াসহ সাতটি এজেন্ডায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিড ডে মিল অনেক জায়গায় পাইলট বেসেজে চালু হয়েছে। এগুলোকে কীভাবে সমন্বিতভাবে সারাদেশে ছড়ানো যায় তার জন্য এ নীতিমালা। এটি বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে তিন উপজেলার স্কুলে রান্না করা খাবার এবং ১০৪টি উপজেলায় বিস্কুট খাওয়ানো হচ্ছে। ১০৪টির মধ্যে ৯৩টি উপজেলায় সরকার ও ১১টি উপজেলায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি অর্থায়ন করছে।
চাঁদপুরে বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে :চাঁদপুরবাসীর জন্য স্থাপিত হচ্ছে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এজন্য মন্ত্রিসভায় চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৯ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এ বিশ্ববিদ্যালয় হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, চ্যান্সেলর থাকবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড কোম্পানি গঠন হচ্ছে
তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা তৈরিতে আর্থিক সহায়তায় ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের আওতায় ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড’ শীর্ষক কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, দেশে আইসিটি খাতে উদ্যোক্তা তৈরিতে এ কোম্পানি গঠন করা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুমোদিত মূলধন হবে ৫০০ কোটি টাকা, ক্যাপিটাল শেয়ার মূল্য ১০ টাকা। ইনিশিয়ালি পেইডআপ ক্যাপিটাল হিসেবে ২০০ কোটি টাকা নিয়ে যাত্রা শুরু করবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিভিন্ন রকমের আইসিটি প্রোডাক্ট নিজেরা তৈরি করবে, মার্কেটিং করবে। যেমন, আউটসোর্সিং থেকে শুরু করে কোম্পানি উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা দেবে। ব্যাংকে লোন পেতে হলে মর্টগেজ লাগে, কতকিছু লাগবে। এটা লাগবে না। তাদের মাথায় যে আইডিয়া আছে তা থেকে টাকা পাবে। তথ্যপ্রযুক্তি সচিব কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন এবং মোট পরিচালক হবেন সাত জন। কী পরিমাণ ঋণ ও সুদের হার নির্ধারণ করে দেওয়া হবে তা এখনো নির্দিষ্ট হয়নি জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোম্পানি কাজ শুরু করলে তা ঠিক করা হবে।
‘বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা আইন, ২০১৮’ এর বিধানাবলি সার্বিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে মন্ত্রিসভা গঠিত আগের কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পাওয়ার ইকুইপমেন্ট ম্যানুফেকচারিং কোম্পানি লিমিটেড স্থাপনের প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারি মালিকানাধীন রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) এবং চীনের বেসরকারি কোম্পানি শেনজান স্টার ইন্সট্রুমেন্ট কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে একটা জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি হবে এটি। এখানে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার উত্পাদন করা হবে।
‘রোহিঙ্গাদের ফেরাতে চীনের বড় ভূমিকা থাকছে’
বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের উদ্যোগে মিয়ানমারের মিত্র হিসেবে পরিচিত চীনের ‘বড়ো ভূমিকা’ থাকছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। তবে কবে থেকে প্রত্যাবাসন শুরু হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে মন্ত্রিপরিষদকে অবহিত করার বিষয়ে শফিউল আলম বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি দু’জনই ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।’
