উত্তর কোরিয়া একটি নতুন দোতলা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়ে একে ‘গভীর উদ্বেগের বিষয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
নতুন ভবনটি উত্তর কোরিয়ার প্রধান ইয়ংবিয়ন পারমাণবিক কমপ্লেক্সের অংশ। সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য ২৮টি পর্যন্ত সেন্ট্রিফিউজ ক্যাসকেড স্থাপনের সুযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
আইএইএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক অবকাঠামোর ধারাবাহিক বিস্তার ঘটিয়ে চলেছে। ২০০৯ সালে পরিদর্শকদের বহিষ্কার করার পর থেকে আইএইএ মূলত স্যাটেলাইট ছবির ওপর ভিত্তি করে তাদের পর্যবেক্ষণ পরিচালনা করে আসছে।
আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি এক বিবৃতিতে জানান, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির এই বিস্তার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার স্পষ্ট লঙ্ঘন। এর আগে গত ৩ জুন দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং উন নবনির্মিত এই পারমাণবিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশংসা করেন।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক এডওয়ার্ড হাওয়েল জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্বেগের প্রধান কারণ হলো ইয়ংবিয়নের বাইরে ক্যাংসনের মতো আরও অনেক গোপন কেন্দ্র রয়েছে যা চিহ্নিত করা কঠিন। ক্যাংসন সেন্টারে গত বছরের শুরুতে একটি নতুন ভবন নির্মাণের পরচলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যক্রম শুরু হওয়ার লক্ষণ দেখা গেছে।
আন্তর্জাতিক আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রতি বছর কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে, যা ২০২২ সালের এক গবেষণা প্রতিবেদনে প্রায় ৬৪ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করা হয়।
২০১৭ সাল থেকে দূরপাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ একাধিক পরীক্ষা চালিয়েছে পিয়ংইয়ং। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ষষ্ঠ পারমাণবিক পরীক্ষার পর ২০২২ সালে নিজেদের পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারী দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে তারা।
চলতি বছরের আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়াং যুদ্ধ অবসানে উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার প্রস্তাব দেন এবং বার্ষিক ১৫ থেকে ২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড উৎপাদন বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যে চুক্তির সমর্থনে মত দেন। তবে উত্তর কোরিয়া এখনো এই প্রস্তাবের কোনো উত্তর দেয়নি।
সূত্র: বিবিসি

