অন্য পুরুষের সঙ্গে কথা বলা সন্দেহে প্রেমিকাকে কাঁচি দিয়ে হত্যা

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৭

অন্য পুরুষের সঙ্গে কথা বলতেন প্রেমিকা এমন সন্দেহ ছিল প্রেমিকের। সেই সন্দেহ থেকেই প্রেমিকাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ভারতের আসামের এক যুবক। পরে হোটেলের কক্ষে গিয়ে ধারালো কাঁচি দিয়ে ২৩ বছর বয়সী প্রেমিকাকে আঘাত করে হত্যা করেন তিনি। এ ঘটনায় ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে আসামের কামরূপ গ্রামীণ জেলার রাঙ্গিয়া এলাকায়। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রেমিকাকে হত্যার অভিযোগে ২২ বছর বয়সী অভিজিৎ কিন্ডোকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত তরুণীর নাম মালিনী গুরিয়া। ২৩ বছর বয়সী মালিনী সোনিতপুর জেলার হুগ্রাজুলি এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত অভিজিৎ উদালগুড়ি জেলার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, প্রেমিকাকে হত্যার পর অভিজিৎ আত্মহত্যারও চেষ্টা করেছিলেন।

পুলিশের দাবি, অভিজিৎ জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, মালিনী তার সঙ্গে প্রতারণা করছেন বলে তার সন্দেহ ছিল। তিনি অন্য পুরুষদের সঙ্গে কথা বলতেন—এমন সন্দেহ থেকেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

রাঙ্গিয়া রেলস্টেশনের কাছে একটি হোটেলে অভিজিৎ ও মালিনী অবস্থান করছিলেন। রোববার সকালে হোটেলের একটি কক্ষ থেকে মালিনীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। একই কক্ষ থেকে অভিজিৎকেও আটক করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আগের রাতে চেন্নাই থেকে আরও দুই নারীর সঙ্গে রাঙ্গিয়ায় এসেছিলেন মালিনী। তাদের নিতে রেলস্টেশনে গিয়েছিলেন অভিজিৎ। পরে দুজনই একই হোটেলে অবস্থান করেন।

মালিনীর বন্ধুদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, অভিজিৎ প্রথমে নিজের জন্য আলাদা একটি কক্ষ বুক করেছিলেন। তবে গভীর রাতে তিনি মালিনীর কক্ষে গিয়ে সেখানে অবস্থান করেন।

পুলিশের হেফাজতে সাংবাদিকদের অভিজিৎ বলেন, ‘সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করছিল, অন্যদের সঙ্গে কথা বলত। সে আসার আগেই আমি তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলাম।’

অভিজিৎ কাঁচি দিয়ে মালিনীকে হত্যার কথাও স্বীকার করেছেন। পুলিশ জানায়, তিনি কাঁচি ও একটি টেস্টার দিয়ে মালিনীকে আঘাত করেন।

রাঙ্গিয়া রেলস্টেশনের এক কর্মকর্তা বিষয়টি জানতে পেরে ভোরে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশের একটি দল দ্রুত হোটেলে গিয়ে অভিজিৎকে আটক করে। আত্মহত্যার চেষ্টার সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগায় তাকে চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সকালে অভিজিৎ মালিনীর বন্ধুদের ফোন করে জানান, তিনি মালিনীকে হত্যা করেছেন এবং নিজেও আত্মহত্যা করবেন।

ঘটনার পর গুয়াহাটি থেকে একটি ফরেনসিক দল হোটেলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে মালিনীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।

সূত্র: এনডিটিভি

ইত্তেফাক/এসজে