পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই সংসদ সদস্যের সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১৫

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৩৩

পঞ্চগড় জেলা শহরে বিএনপির দুই সংসদ সদস্যের (এমপি) পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে জেলা শহরের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সমর্থকরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি এমআর কলেজ মোড়ে পৌঁছালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ হয়।

এ সময় দুই পক্ষের সদস্যরা লাঠি হাতে মহাসড়কে অবস্থান নেন। সংঘর্ষে আহত ১৫ জনকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত চারজনকে পরে রংপুরে রেফার করা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতরা হলেন রোকনুজ্জামান জাপান (৩৫), আব্দুল বাতেন (৪০), শামীম (২৮), জীবন (২২), সাফাত কবির (২১), সাক্ষর (১৮), পাক্কু (২২), ময়নুল (২৮), তপু (১৮), মিলন (১৮), সৌমিক (১৯), ফরহাদ (১৮), করিম আখতার (৪৪), জিসান (১৭) ও নুরনবী চৌধুরী (৩৮)। তারা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী।

সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত থেমে থেমে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে দুই পক্ষ ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।

সংঘর্ষের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদের উপস্থিতিতে বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল হয়। এরই জেরে রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, ‘মোট ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে রেফার করা হয়েছে। অনেকে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। আমরা জেনেছি, রাজনৈতিক মারামারিতে তারা আহত হয়েছেন।’

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইত্তেফাক/এসজে