ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানায়নি ভারত: স্পিকার

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৯

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সুসম্পর্ক চায়, তবে এখন পর্যন্ত ভারতও একই ধরনের সম্পর্ক চায় এমন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেছেন, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে এখনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। একই সঙ্গে ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক সমমর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্পিকার।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তো তারা এখনো ইনভাইট করেনি।”

ভারতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আশ্রয় দেওয়া এবং সেখান থেকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, এটি সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয়।

স্পিকার বলেন, “ভারতের সাথে আমাদের সুসম্পর্ক রাখা দরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারাও যে সুসম্পর্ক চায় তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না। কেবলমাত্র দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে কথাবার্তা চালাচালি হচ্ছে।”

বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সৎ প্রতিবেশীসুলভ ও সমমর্যাদার সম্পর্ক চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক হতে হবে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে।

অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ভারতের সম্পর্ককে ‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা সেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না। সমমর্যাদার ভিত্তিতে একটা সার্বভৌম দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে মর্যাদার ভিত্তিতে যে সম্পর্ক থাকা উচিত, আমরা সেই ধরনের সম্পর্কই চাই।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।

এদিকে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও সংস্কার কার্যক্রমের প্রশংসা করেন স্পিকার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছেন। সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস হলেও গত ১৭ বছরের বিভিন্ন সংকট থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে সময় লাগবে।

সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে সংসদে ঐকমত্য হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব হবে।

 

 
ইত্তেফাক/এসএ