ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড, পদদলিত হয়ে শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:০৩

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় শিশুসহ ছয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের ওপরের অংশে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।

নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তারা হলেন—হাজেরা বেগম (৫০), শাহজাহান (৪০), রমজান (৩৮), জাহানারা (৫০) ও কুলসুমা (৩৫)। নিহত অপর শিশুর বয়স ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে ভবনের আটতলায় আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক দেখা দেয়। প্রাণভয়ে সবাই একসঙ্গে অপ্রশস্ত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করলে হুড়োহুড়ি ও ধাক্কাধাক্কির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে অনেকেই পা পিছলে পড়ে যান এবং নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই শিশুসহ ছয়জনের প্রাণহানি ঘটে।

ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে ময়মনসিংহের পাঁচটি স্টেশনের মোট ১০টি অগ্নিনির্বাপক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে বাড়তি ইউনিটগুলো ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তবে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য ঘটনাস্থলে চারটি ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, নতুন ভবনের লিফটের কন্ট্রোল রুমে থাকা মেশিনের সঙ্গে সংযুক্ত বোর্ডে অতিরিক্ত উত্তাপ ও বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে বিস্তারিত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগুনের তীব্রতা খুব বেশি না হলেও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রচুর ধোঁয়া ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়েছিল, যা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ভীতির সঞ্চার করে।

হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, অগ্নিকাণ্ডে হাসপাতালের চিকিৎসা ওয়ার্ডগুলোর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বৈদ্যুতিক সংযোগে কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ ত্রুটি ছিল কি না এবং দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএন