কুমিল্লার মুরাদনগরে পৈতৃক সম্পত্তি ভাগাভাগি ও জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে এক নারীকে ও তার ভাতিজাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত আটটার দিকে উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের দড়ানীপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—দড়ানীপাড়া গ্রামের মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে মনজুরুল আলম টিটু (৩৫) এবং একই গ্রামের জসীম উদ্দীনের স্ত্রী খালেদা আক্তার (৭০)। সম্পর্কে তারা ফুফু ও ভাতিজা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দড়ানীপাড়া এলাকার প্রয়াত মনু মিয়ার রেখে যাওয়া ছয় ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে অভিযুক্ত মুস্তাফিজুর রহমান আবু সবার ছোট। মনু মিয়ার মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তি ওয়ারিশদের মধ্যে রেকর্ড করার প্রক্রিয়ায় আবু কৌশলে ও গোপনে নিজের নামে অতিরিক্ত ৩০ শতাংশ জমি লিখে নেন। বিষয়টি পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের নজরে এলে তীব্র অসন্তোষ ও দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জন্ম দেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আদালতে মামলাও চলছিল।
সোমবার রাতে ওই বিতর্কিত জমি নিয়ে আবু ও তার স্বজনদের মধ্যে নতুন করে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আবু ধারালো দা নিয়ে তার বড় বোন খালেদা আক্তার ও ভাতিজা মঞ্জুরুল আলমের ওপর চড়াও হন এবং তাদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যান।
চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
মুরাদনগর সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এ কে এম কামরুজ্জামান জোড়া খুনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের কোন্দলের জেরেই এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতদের মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত মুস্তাফিজুর রহমান আবু ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে এবং এ ঘটনায় মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

