গাইবান্ধা পৌর শহরে ১১ মাস বয়সী এক কন্যাসন্তানকে নিয়ে উধাও হয়ে ১০ হাজার টাকা দাবি এবং টাকা না দিলে তাকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে এক মাদকাসক্ত বাবার বিরুদ্ধে। নিখোঁজ শিশুটির নাম ফাতেমা আক্তার জান্নাত। সন্তানকে উদ্ধারে ভুক্তভোগী মা থানা ও আদালতে অভিযোগ দিয়েও দীর্ঘ প্রায় দুই মাস কোনো সন্ধান না পেয়ে চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী মা রুমানা আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুলাই বিকেলে তার স্বামী হামিদুল মিয়া শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শিশু ফাতেমাকে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে কোলে নিয়ে বাইরে যান এবং এরপর আর ফিরে আসেননি। ঘটনার দুই দিন পর হামিদুল ফোন করে মেয়েকে ফেরত দেওয়ার শর্ত হিসেবে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত অর্থ না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।
আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে আকুতি জানিয়ে মা রুমানা আক্তার বলেন, ‘আমি কোনো কিছু চাই না, শুধু আমার সন্তানকে ফিরে চাই। আমার স্বামী আমাকে সন্তান বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। আমার সন্তান কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে—কিছুই জানি না। এ নিয়ে আমি খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে হামিদুল মিয়ার সঙ্গে রুমানা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই হামিদুল মাদকের টাকার জন্য রুমানার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতে শুরু করেন। সন্তানের জন্মের পর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে গেলে বাধ্য হয়ে রুমানা শিশুটিকে নিয়ে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। স্বজনদের অভিযোগ, মাদকের অর্থ জোগাড় করতেই নিজের কোলের সন্তানকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন হামিদুল।
শিশুটির নানি রোশনা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দিনমজুর ও দরিদ্র পরিবার হওয়ায় তাদের পক্ষে দাবি করা টাকা দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই তিনি দ্রুত নাতনিকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও হামিদুলের মাদকাসক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা জানান, এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং নিখোঁজ শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

