প্রথমবারের মতো জাপানে ১০০ বছর বয়সি মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়াল, ৮৮ শতাংশই নারী

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:০০

জাপানে কয়েক দশক ধরে জনসংখ্যা হ্রাসের প্রবণতা থাকলেও, একটি নির্দিষ্ট বয়সের মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে এবং বর্তমানে তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ। দীর্ঘায়ুর জন্য পরিচিত এ দেশটিতে প্রথমবারের মতো ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ অতিক্রম করেছে—যা একটি নতুন রেকর্ড।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়। এতে দেখা যায়, দেশটিতে টানা ৫৬তম বছরের মতো বেড়ে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৮ হাজার জন বেশি।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, পরিসংখ্যান অনুযায়ী শতবর্ষীদের বড় অংশই নারী। মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জনের মধ্যে ৯৪ হাজার ২৯৮ জন নারী, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৮৮ শতাংশ। পুরুষের সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৭৯ জন।

এ বিষয়ে জাপানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনিচিরো উয়েনো পরিসংখ্যানগুলো সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এত বেশি সংখ্যক মানুষ এত দীর্ঘ সময় সক্রিয় ও সুস্থ থাকছেন।’

দীর্ঘায়ুর দিক থেকেও জাপান বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির মানুষের গড় আয়ু ছিল ৮৪ বছর। গবেষকদের মতে, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা দেশটির মানুষের দীর্ঘায়ুর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া জাপানের শহরগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রমের একটি প্রথা থাকলেও, কিছু নাগরিক ‘ইকিগাই’ দর্শন মেনে চলেন—যা জীবনকে অর্থপূর্ণ করা এবং তাতে আনন্দ ও মূল্য খুঁজে পেতে উৎসাহিত করে।

জাপানে বর্তমানে বিশ্বের প্রবীণতম মানুষদের কয়েকজনও বসবাস করছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে কিয়োটোর ১১৪ বছর বয়সী ফুয়ো কিশিমোতো এবং কুমামোতোর ১১২ বছর বয়সী হিকারু কাতো রয়েছেন।

তবে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি দেশটির জনমিতিক চাপও তীব্র হচ্ছে। বয়স্ক জনগোষ্ঠীর পরিচর্যার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। একই সময়ে জন্মহার রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে থাকায় জাপানের প্রায় ১২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের মোট জনসংখ্যাও কমছে।

এই পরিস্থিতিতে শ্রমবাজারের ঘাটতি সামাল দিতে জাপান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি দক্ষ ও সাধারণ শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়েছে। তবে বিদেশিবিরোধী মনোভাবের মধ্যে সরকার ভিসা ও অভিবাসনসংক্রান্ত কিছু নিয়মকানুন আরও কঠোর করেছে।

ইত্তেফাক/এসজেএস