কুষ্টিয়া

কৃষকদলের অফিসে হামলা-ভাঙচুর, পরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আগুন

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:১৮

কুষ্টিয়ায় বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের অফিসে হামলা-ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুদ্ধ জনতা ও বিএনপি কর্মীরা ওই হামলায় নেতৃত্বদানকারি আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি-গোডাউনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ক্ষয়-ক্ষতিসহ পুরো গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতংক ও ভীতি।

খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। 

গত ১৫ সেপ্টেম্বর সোমবার) রাত সাড়ে ৮ টারদিকে কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার অন্তর্গত পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকোলা গ্রামের এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, রাতে কৃষকদলের কার্যালয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের অবস্থানকালে পাটিকাবাড়ি ইউপি আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রুহুলের নেতৃত্বে ৪০/৫০ জন জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে অতর্কিত হামলা ওআক্রমন চালায়। এসময় তারা কৃষকদলের কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। 

এতে দলীয় ওই কার্যালয়ে সংরক্ষিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবি ছুড়ে ফেলে দেয় হামলাকারিরা। এছাড়া কার্যালয়সহ চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়। এসময় অনন্তঃ ৫/৭ জন বিএনপি কর্মী আহত হন। 

এদিকে অতর্কিত এই হামলা ও ভাঙচুরের পর বিক্ষুদ্ধ জনতা-বিএনপি কর্মীরা আওয়ামী লীগ নেতা রুহুলের বাড়ি এবং বাড়ি সংলগ্ন গোডাউনে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। 

এতে গ্রামজুড়ে তুমুল উত্তেজনা ও আতংক ছড়িয়ে পড়ে। 

খবর পেয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার পুলিশসহ বিপুল সংখ্যক আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রনে আনে। এনিয়ে এলাকায় বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা। এদিকে যেকোন ফের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এরআগে আওয়ামী লীগ নেতা রুহুলসহ দলীয় বেশ কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ইবি থানায় নাশকতা মামলা দায়ের হয়। ওই মামলায় সম্প্রতি তারা জামিন লাভের পর প্রতিশোধ নিতে কৃষক দলের কার্যালয়ে অতর্কিত হামলা-আক্রমন করা হয় বলে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানায়। তবে এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি।

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য-সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার জানান, উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে ন্যাক্কারজনক এই হামলা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দাবী করেছেন তিনি।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলা ঘটনার পর তুমুল উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতরেদর চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

ইত্তেফাক/পিএস