সরকারি চাকরিতে তদবির করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা, নথিতে থাকবে তথ্য

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২০

সরকারি কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির করার প্রবণতা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে কোনো কর্মচারী নিজের চাকরির বিষয়ে তদবিরের জন্য অন্য কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে দপ্তরে পাঠালে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলকভাবে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই কর্মচারীর পক্ষে করা তদবিরের বিস্তারিত তথ্য তার চাকরি সংক্রান্ত মূল নথি বা ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত একটি কড়া নির্দেশনা জারি করে দেশের সকল সিনিয়র সচিব, সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) কাছে অফিসিয়াল চিঠি পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সরকারি কর্মচারীদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত তা ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর সংশ্লিষ্ট বিধিতে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা গেছে, কিছু অসাধু কর্মচারী নিজেদের চাকরি সংক্রান্ত নানা বিষয়ে তদবির করাতে বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজনকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়ে থাকেন। সরকারের মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড উক্ত আচরণের বিধিমালার বিধি ২০-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’-এর ২(খ) ধারা অনুযায়ী সরাসরি ‘অসদাচরণ’-এর শামিল।

নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর পক্ষে অন্য কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির করলে শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি এই ধরনের তদবিরের আদ্যোপান্ত বা বিস্তারিত তথ্য ওই কর্মচারীর সার্ভিস ডোসিয়ারে স্থায়ীভাবে টুকে বা সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।

তবে তদবিরের পথ এড়িয়ে কর্মচারীরা যাতে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিকার পান, সে বিষয়েও নির্দেশনা রয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারীর চাকরি সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগে আবেদন করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। আর সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকেও সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে সেই আবেদনগুলো যৌক্তিকভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে। নিজ নিজ অধস্তন দপ্তর ও সংস্থায় এই নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএম