ইয়েমেনের তায়েজ ও হাজ্জাহ প্রদেশের বেসামরিক এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবের এফ-১৫ যুদ্ধবিমান। খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটি থেকে উড়ে আসা যুদ্ধবিমানগুলোর এই হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক লোক হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
হামলার প্রতিক্রিয়ায় আনসারুল্লাহ নেতা সাইয়্যেদ আবদুল মালিক আল-হুথি জানান, মার্কিন তত্ত্বাবধান এবং ইসরায়েলি উসকানিতে সৌদি আরব ইয়েমেনের বিরুদ্ধে তাদের আগ্রাসন ও অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১২ বছরের এই যুদ্ধে সৌদি আরব কখনোই বেসামরিক জীবনের তোয়াক্কা করেনি এবং বাজার, ঘরবাড়ি, হাসপাতাল ও স্কুলে হামলা চালিয়ে হাজার হাজার নারী ও শিশুকে হত্যা করেছে।
হুথি নেতা দাবি করেন, ইয়েমেন কখনো আগে যুদ্ধ শুরু করেনি এবং তারা কেবল আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে। সানা বিমানবন্দরে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক অহেতুক বিমান হামলার মাধ্যমেই এই নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি নেতৃত্ব ইয়েমেনি জনগণকে দুর্বল ও দমন করে নিজেদের ক্ষমতা বজায় রাখতে চায় বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।
ইয়েমেনি জনগণ আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাদের এই আগ্রাসনের বিরোধিতা করছে উল্লেখ করে আল-হুথি বলেন, তাদের পাল্টা আক্রমণগুলো কেবল সৌদি সামরিক ঘাঁটি এবং তেল স্থাপনা লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়েছে। মক্কায় ইয়েমেন হামলা চালিয়েছে বলে সৌদি যে দাবি করছে, তাকে তিনি ‘খুবই বড়, কুৎসিত এবং জঘন্য মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
সৌদি আরব মক্কাকে ব্যবহার করে পুরো অঞ্চলকে একটি প্রত্যক্ষ যুদ্ধে টেনে আনার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তোলেন এই আনসারুল্লাহ নেতা। একই সঙ্গে ইয়েমেনি জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে মক্কার পবিত্রতাকে অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে তিনি মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

