তদন্তের কারণে ফোন জব্দ, হাইকোর্টের পর আইসিসির দ্বারস্থ রিজওয়ান 

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:১৩

মোবাইল ফোন জব্দ ও জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে এবার আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের (আকসু)  দ্বারস্থ হয়েছেন পাকিস্তানের ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইমস ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ) তার ফোন জব্দ করার পাশাপাশি নোটিশ দেওয়ার পর এই পদক্ষেপ নিয়েছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ। 

লর্ডস টেস্ট শেষে নিরাপত্তাকর্মীরা রিজওয়ানের মোবাইল ফোন হেফাজতে নেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফোনটি ফেরত দেওয়ার কথা বলা হলেও তা আর ফেরত দেওয়া হয়নি। পরে ইংল্যান্ড থেকে ফোনটি পাকিস্তানে নিয়ে গিয়ে ফরেনসিক পরীক্ষা করে এনসিসিআইএ।

এ ঘটনায় আকসুর কাছে রিজওয়ান জানতে চেয়েছেন, তার ফোন জব্দ ও ফরেনসিক পরীক্ষার বিষয়টি আইসিসি অবগত ছিল কি না। একই সঙ্গে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) এ বিষয়ে জানত কি না, সেটিও জানতে চেয়েছেন পাকিস্তানের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। 

জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি রিজওয়ান। বরং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও এনসিসিআইএর কার্যক্রম আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালা অনুযায়ী হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন তিনি।

এর আগে এনসিসিআই-এর নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে লাহোর হাইকোর্টে রিট করেছিলেন রিজওয়ান। প্রধান বিচারপতি আলিয়া নীলমের আদালতে শুনানিতে তার আইনজীবী কাজী উমাইর আলী দাবি করেন, রিজওয়ানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তার ভাষ্য, লর্ডস টেস্টের পর হোটেলের লবিতে রিজওয়ানকে ডেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ ছাড়াই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তখনই তার ফোনটি নিয়ে নেওয়া হয়।

আইনজীবীর দাবি, ফোনটি তিন ঘণ্টার মধ্যে ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা করা হয়নি। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে বিষয়টি আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের আওতায় আসার কথা। কিন্তু রিজওয়ানের বিষয়ে আকসুর কাছে কোনো অভিযোগ বা তথ্য পাঠানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তবে শুনানির সময় মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র আদালতে উপস্থাপন করতে না পারায় রিজওয়ানের আইনজীবীর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি আলিয়া। রিজওয়ানকে উদ্দেশ করে তিনি জানতে চান, ১০ সেপ্টেম্বর ডাকা হলে তিনি সেখানে সাড়া দিয়েছিলেন, তাহলে এখন আদালতে আসার প্রয়োজন হলো কেন। পরে আদালত তার রিট আবেদন খারিজ করে দেন।

এনসিসিআই-এর নোটিশে অনলাইন বাজি ও জুয়া-সংক্রান্ত তদন্তের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে রিজওয়ানকে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি বলে তার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তিনি লিখিতভাবে নোটিশের জবাবও দিয়েছেন এবং ফোনটি এখনো কেন ফেরত দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছেন।

ইত্তেফাক/জেডএইচ