রিমান্ডে গাজী তানভীরের শরীরে অজ্ঞাত ইনজেকশন পুশ করা হয়েছিল: নাহিদ

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৫

পুলিশি ও কারা হেফাজতে ‘ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়ে’ গুরুতর অসুস্থ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের দ্রুত ও পরিপূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।

এর আগে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ তারা হাসপাতালে গিয়ে তানভীরের শারীরিক অবস্থা দেখে গভীর মর্মাহত ও হতভম্ব হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন এবং তানভীরকে দেখতে যাওয়ার একটি ছবিও শেয়ার করেন।

ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করার দায়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও এক বিএনপি নেতার দায়ের করা মামলায় গাজী তানভীরকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আইনি অধিকার থেকে তারকে বঞ্চিত করে জামিন না দিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং কারা হেফাজতে তার ওপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। রিমান্ডকালীন তার শরীরে অজ্ঞাত ইনজেকশন পুশ করার কারণে তার শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এছাড়া আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী গত ১৫ আগস্ট তিনি স্ট্রোকও করেছিলেন। অবস্থার অবনতি ঘটলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে প্রথমে বগুড়া মেডিকেল কলেজ এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। বারবার জামিনের আবেদন নাকচ হওয়ার পর অবশেষে উচ্চ আদালত থেকে এক বছরের জামিন পেয়ে বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অপরাধ করলে তা আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হবে—এমন মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘কিন্তু রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হেফাজতে নেওয়ার পর তার শরীরে অজ্ঞাত ইনজেকশন দেওয়ার অভিযোগ উঠবে, তার শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যাবে, এটা কোনো অবস্থাতেই স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না।’ স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশেও বর্তমান সরকারের আমলে একই ধরনের কারা নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

রিমান্ডে দেওয়া কথিত ইনজেকশনের পরিচয়, চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার আদ্যোপান্ত জানতে সম্পূর্ণ মেডিকেল রেকর্ডের ভিত্তিতে সরকারের কাছে ঘটনার সুস্পষ্ট জবাব দাবি করেছেন এনসিপির এই শীর্ষ নেতা। একই সঙ্গে তানভীরের ওপর চালানো নির্যাতনকে সরকারের মানবাধিকারবিরোধী অবস্থানের চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন গঠন এবং এর স্বার্থে সংশ্লিষ্ট আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।

 

 

ইত্তেফাক/এএম