অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে একাধিক ক্লু পাওয়ার দাবি পুলিশের

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:২৩

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হতে পারে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান।

শনিবার বিকেলে পুলিশ সুপার বলেন, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক দল তাকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে। এরই মধ্যে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ক্লু পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে শুধু আইফোন নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা দ্রুতই উদঘাটন করা হবে। এ ঘটনায় যতজনই জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কয়েকজন পুলিশ হেফাজতেও রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

পুলিশ জানায়, অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এদিকে একাধিক সূত্রের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তুহিন নামে এক যুবকের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার দিন বিকেল থেকে ওই যুবক তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতীম। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে ওইদিন সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।

নিখোঁজের পর থেকেই অপ্রতীমকে উদ্ধারে স্বজনদের পাশাপাশি পুলিশও তৎপর হয়। তার সর্বশেষ অবস্থান এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছিল পুলিশ।

শনিবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপ্রতীম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।

অপ্রতীমের মরদেহের প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল কাদের জিলানী বলেন, তারা বাঁশ কাটতে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। সময় আনুমানিক সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে হবে। তার ছেলে দূর থেকে বলছিল, সেখানে কেউ ঘুমিয়ে আছে। পরে কাছে গিয়ে দেখা যায়, অপ্রতীমের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি দেখে তারা ভয় পেয়ে যান।

তিনি বলেন, কিছুক্ষণ পর মামুন নামে একজনের সঙ্গে তাদের দেখা হয়। অপ্রতীমের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তাকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম বলেন, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে অপ্রতীমকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও পাওয়া যায়নি।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

 
ইত্তেফাক/এমএএম