জাতীয় স্বার্থ নয়, বিএনপি দলীয় স্বার্থ আদায়ে সরকারে গিয়েছে: নাহিদ ইসলাম

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:০৭

জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে ক্ষমতায় এলেও বিএনপি দেশের জাতীয় স্বার্থ নয় কেবল নিজেদের দলীয় স্বার্থ আদায়ে সরকারে গিয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে ৮ দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের সমাপনী সভাস্থল রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সরকারের স্লোগান ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। সবার আগে বাংলাদেশের কথা বলেছে তারা। কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করতে তারা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না, কেন দিল্লির সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা বা নেগোসিয়েশন করতে পারছে না। ভূ-রাজনীতিতে কেন তারা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ আদায় করতে পারছে না। এটা থেকে আমরা বুঝতে পারি—বিএনপি দেশের জাতীয় স্বার্থ নয় কেবল নিজেদের দলীয় স্বার্থ আদায়ে সরকারে গিয়েছে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ার নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আপনারা গণভোটে ভোট দিয়েছেন, কিন্তু সেই ভোটের রায় এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা শহীদ ওসমান হাদী হত্যার বিচার পাইনি। 

তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে এক বিচারের রায় এসেছে কিন্তু রায়-মৃত্যুদণ্ড তাদের জন্যই আসে যারা দেশে নাই। যারা দেশে অবস্থান করছে তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় কেন আসে না। আমরা তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর দেখতে চাই।

দেশের বিভিন্ন সংকটের কথা তুলে ধরে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সারাদেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং সার সংকট। এই রংপুর অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষের কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। আজকে তারা সার, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। সারা দেশে সব প্রতিষ্ঠানে নজিরবিহীন দলীয়করণ হয়েছে। চাঁদাবাজ, দখলদারিত্বসহ সন্ত্রাসের অভয়রণ্যে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের সব ক্যাম্পাস ও সব এলাকা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তিনি বলেন, বর্তমানে সারাদেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের জননিরাপত্তা নেই। শিশুদের নিরাপত্তা নেই, মা-বোনদেরও নিরাপত্তা নেই। কেন এই নিরাপত্তা নেই, কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ হচ্ছেন—তার জবাবদিহিতা সংসদে দিচ্ছেন না। যদি আমরা জবাবদিহিতা চাই, তখন তিনি তেলেবেগুনে জ্বলে উঠছেন এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে তাদের দলীয় নেতাকর্মী এবং ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। ১১ দলীয় ঐক্যের কোনো নেতাকর্মীর গায়ে হাত তোলা হলে পাল্টা আঘাতের জন্য তারা প্রস্তুত আছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারকেও এ বিষয়ে প্রস্তুত থাকার হুঁশিয়ারি দেন।

সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, পুলিশ সংস্কার কমিশন করা হয়নি। গুম আইন করে গুমের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। বিরোধীদল দমনের জন্য এসআরবি গঠন করে পুলিশকে আবারও ব্যবহারের চেষ্টা করছেন। এই চেষ্টা ব্যর্থ হবে কারণ বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা আর কাউকে স্বৈরাচার হতে দেবে না। যদি কেউ স্বৈরাচার হতে চেষ্টা করে, যা এই সরকার করছে তাহলে রংপুরের মাটি থেকেই প্রথম বিদ্রোহ, প্রথম বিপ্লবের আহ্বান আসবে, ইনশাআল্লাহ।

১১ দলীয় ঐক্যর প্রার্থীদের সংসদ নির্বাচনে জয়ী করায় রংপুরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ এবং একইসঙ্গে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। কারণ এখন শুনতে হচ্ছে বিরোধীদলে ভোট দেওয়ায় রংপুরবাসী কোনো উন্নয়নের বরাদ্দ পাবে না। রংপুরবাসীর সঙ্গে দীর্ঘকালের চলমান বৈষম্য বর্তমান সরকারও বহাল রাখছে। ফলে আমাদের আট দফার একটি দফা রংপুরবাসীর জন্য ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা শুধু কথার কথা নয়, এটা শুধু দাবির দাবি নয়। আমরা সত্যিকার অর্থে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

এ সময় আট দফা বাংলাদেশকে মুক্তি দিতে পারবে উল্লেখ করে তিনি বলন, আমরা আট দফা দাবি নিয়ে আপনাদের কাছে এসেছি, যে আট দফা বাংলাদেশকে মুক্তি দিতে পারবে, ইনশাআল্লাহ। যদি আপনারা সঙ্গে থাকেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি। যেভাবে চব্বিশে ঐক্যবদ্ধ ছিলাম—এভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমরা আট দফা আদায় করেই ঘরে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।

ইত্তেফাক/এমএসআর