বিএনপিসহ দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু, অংশ নেয়নি জামায়াত-এনসিপি

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

জুলাই জাতীয় সনদে সই করা রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেছে জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। তবে সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও কয়েকটি দল এ বৈঠকে অংশ নেয়নি। 

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অংশ নেন। এছাড়া গণ অধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, এনডিএম, আমজনতার দল, ইসলামী ঐক্যজোট, ভাসানী জনশক্তি পার্টি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণফোরাম ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে সদস্যরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ কমিটির বৈঠকের আলোচ্যসূচির অন্যতম বিষয় ছিল ‘জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কমিটির মতবিনিময়’। এ জন্য সনদে সই করা ২৬টি দল ও জোটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ের দুজন করে প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। দল ও জোটগুলোর কাছে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরার অনুরোধ করা হয়। 

এর আগে গত ৪ আগস্ট বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী ও গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়েছে।

তবে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিরোধী দলগুলোর অবস্থান ভিন্ন। গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে তারা। এই পরিষদ গঠন না করায় সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত সরকারি উদ্যোগের অংশ হতে তারা রাজি নয়। বিশেষ কমিটিতেও বিরোধী দল কোনো প্রতিনিধি দেয়নি। 

জুলাই জাতীয় সনদ তৈরির সময় অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের বিষয়ে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও আলোচনা হয়। পরে বামপন্থী চারটি দল সনদে সই না করায় মোট ২৬টি দল ও জোট এতে স্বাক্ষর করে। এর মধ্যে আটটি দল বর্তমানে ১১ দলীয় ঐক্যের সঙ্গে রয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে, যার ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত। এসব সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করেছিল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এসব প্রস্তাব নিয়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পর ওই আদেশ অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের নিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন এবং ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করার কথা ছিল।

তবে বিএনপি সরকার গঠনের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করেনি। দলটির সংসদ সদস্যরাও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। এর পরিবর্তে গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হয়। কমিটিতে বিরোধী দল থেকে পাঁচজন প্রতিনিধি রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা কোনো নাম দেয়নি এবং কমিটির কার্যক্রম প্রত্যাখ্যান করে।

এ অবস্থায় জুলাই জাতীয় সনদে সই করা দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে মতামত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশেষ কমিটি। তবে বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ না থাকায় সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্যই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

ইত্তেফাক/এমএএম