শরণখোলায় নিজের বুদ্ধিমত্তায় পাচারকারীদের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে ৫ম শ্রেণির ছাত্রী তানজিলা আক্তার। উপজেলার রাজৈর গ্রামের বেলাল সিকদারের কন্যা তানজিলা সোমবার দুপুরে স্কুলে টিফিনের সময় বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞাত পাচারকারীরা তার মুখে রুমাল চেপে অজ্ঞান করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।
পাচারকারীদের কবল থেকে ফিরে আসা উপজেলার রাজৈর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী তানজিলা জানায়, সোমবার দুপুরে স্কুল থেকে সে বাড়ি ফিরছিলো। পথে খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মাঠেরপাড় সড়কের মোড়ে একটি কালো রংয়ের মাইক্রোবাস এসে তার পাশে দাঁড়ায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই জনমানবশূন্য রাস্তায় আকস্মিক গাড়ির দরোজা খুলে পাচারকারীরা তাকে জোর করে গাড়িতে তুলে নাকের কাছে একটি রুমাল চেপে ধরে। সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
জ্ঞান ফিরলে তানজিলা নিজেকে একটি তালাবদ্ধ ঘরের মধ্যে আটক দেখতে পায়। সেখানে আরও একটি শিশুকে অজ্ঞান অবস্থায় ওই রুমে পড়ে থাকতে দেখেছে সে। তখন পাচারকারী দলের কেউ সেখানে ছিলো না। এরপর তানজিলা ইট দিয়ে সেই ঘরের জানালা ভেঙ্গে বের হয়ে বাগানের মধ্য দিয়ে এসে মূল সড়কে ওঠে কাদঁতে কাঁদতে হাটা শুরু করে।
আমড়াগাছিয়া গ্রামের ভ্যান চালক সালাম ফকির তাকে একা রাস্তায় পেয়ে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। ভ্যান চালক জানান, সোমবার বিকাল ৫টার দিকে শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ মহাসড়কের গাজীর ব্রিজ এলাকায় স্কুল ড্রেস পরিহিত ওই মেয়েটিকে কাঁদতে দেখে তিনি তাকে ভ্যানে উঠিয়ে নেন এবং তার কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শুনে তার অভিভাবকদের খবর দেন।
তানজিলার মা রিনা বেগম জানান, স্কুল থেকে টিফিনের সময় মেয়ের বাড়িতে ফিরতে দেরি হওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বিকেল পর্যন্ত মেয়ের কোনো খবর না পেয়ে তিনি ভেঙ্গে পড়েছিলেন। সন্ধ্যায় তানজিলা ফিরে আসায় পরিবারে মাঝে স্বস্তি ফেরে। বাড়ি এসে তানজিলা খোন্তাকাটা ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন খাঁন ও পরিবারে কাছে ঘটনার বর্ণনা করে।
তানজিলা জানায়, তাকে নিয়ে গেলে ওই বাড়ির লোকেশন সে দেখাতে পারবে।
আরও পড়ুন: গুঠাইলে অগ্নিকাণ্ডে ১২টি দোকান পুড়ে ছাই, কোটি টাকার ক্ষতি
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ দিলীপ কুমার সরকার জানান, ঘটনাটি তিনি জেনেছেন। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
ইত্তেফাক/নূহু

