বাসার গ্রিল কেটে চুরি, ‘নতুন নোট’ খরচের সূত্রে ধরা পড়ল চোর

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:১০

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি বাসার পেছনের গ্রিল কেটে নগদ ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে চুরির টাকায় তৈরি করা একটি নতুন অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। আরেকজন ইতোমধ্যে অন্য একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- সুমন, রাসেল ও সানি। কারাগারে থাকা ব্যক্তি হলেন মানিক। পুলিশের ভাষ্য কারাগারে বন্দি মানিকের পরিকল্পনায় বাকি তিন জন ওই বাসায় চুরি করে। বরিশাল, ভোলা ও কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে সুমন, রাসেল ও সানিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ্

পুলিশের জানায়, গত ২৪ জুলাই রাতে চানমিয়া হাউজিংয়ের রোড নম্বর ৩, ব্লক-বি, বাসা নম্বর ৪১/২২-এর নিচতলায় চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা বাসার পেছনের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে ভুক্তভোগী গোলাম মোস্তফার নগদ ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে ছিল ১৪ আনা ওজনের দুটি চেইন, ৬ আনা ওজনের দুটি আংটি, ৪ আনা ওজনের দুটি কানের দুল ও ৮ আনা ওজনের দুটি বালা।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এক জোড়া কালো রঙের স্যান্ডেল উদ্ধার করে। তবে বাসার পেছনের পথ দিয়ে চোরেরা যাতায়াত করায় প্রাথমিকভাবে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিওতে তাদের শনাক্ত করার মত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরে তদন্ত করে পুলিশ জানতে পারে, চুরির পরদিন সকালে সানি, রাসেল ও সুমন নামে তিনজনকে প্রচুর নতুন টাকা নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। স্থানীয় দোকানেও তারা ওই টাকা খরচ করছিলেন।

পুলিশের ভাষ্য, তাদের একজন দোকানদারের কাছে বন্ধক রাখা একটি মোবাইল ফোন ছাড়িয়ে নিতে ৫০০ ও ২০০ টাকার নোটে টাকা দেন। পরে দোকানদারকে বকশিশও দেওয়া হয়। এই তথ্যের ভিত্তিতে টাকার নম্বরের সূত্র ধরে ঢাকার পাশাপাশি বরিশাল ও ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। এক পর্যায়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, আদালতে সোপর্দ করার পর সুমন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে সুমন জানিয়েছেন মানিকের পরিকল্পনায় সে, রাসেল ও সানি মিলে ওই বাসায় চুরি করেন।

পুলিশ জানায়, মানিক এ চুরির মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি বর্তমানে অন্য একটি মামলায় কারাগারে থাকায় তাকে এ মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। পরে সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাতে কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক রাসেল ও সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চুরি করা টাকা চারজনের মধ্যে সাড়ে চার লাখ টাকা করে ভাগ করে নেওয়া হয়। পরে ওই টাকা ঘরের আসবাবপত্র কেনা, জুয়া খেলা ও মাদক সেবনে খরচ করা হয়। এর মধ্যে রাসেল চুরির টাকায় একটি নতুন অটোরিকশা তৈরি করেন। সেটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার কোথায় বিক্রি করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানতে গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। একই সঙ্গে বাকি চোরাই মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ইত্তেফাক/এমএসআর