এক ঘণ্টায় শেষ ঐতিহাসিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সব টিকিট

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৪১

জাপান জাতীয় ক্রিকেট দল তাদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম এক মাইলফলক স্পর্শ করার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রথমবারের মতো আইসিসির কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে নামছে তারা, আর প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে টি-টোয়েন্টির বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল ভারতকে।

ভারত ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘সুজুকি কাপ’ শীর্ষক এই একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি মঙ্গলবার জাপানের সানো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় শুরু হবে।

দুই দলের র‍্যাঙ্কিংয়ে আকাশ-পাতাল ব্যবধান (ভারত ১ নম্বর, জাপান ৪১তম) এবং আইসিসির বাছাইপর্বের বাইরে এত বড় র‍্যাঙ্কিং ব্যবধানের দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচে ভারত প্রবলভাবে ফেবারিট হলেও, আগেভাগে ভড়কে না গিয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের সামর্থ্য ও লড়াই করার মানসিকতা প্রদর্শন করতে মুখিয়ে আছে জাপান দল।

জাপানে প্রথাগতভাবে বেসবলের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি থাকলেও, ভারতের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে ক্রিকেটেও দারুণ উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে। দর্শকদের অভূতপূর্ব আগ্রহের কারণে স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে ৩ হাজারে উন্নীত করা হলেও টিকিটের চাহিদা মেটানো যায়নি; মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে।

আসন্ন এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে এই ম্যাচটিকে দুই দলের জন্যই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এশিয়ান গেমসের নিয়ম মেনেই নিজেদের স্কোয়াড সাজিয়েছে স্বাগতিক জাপান, যার ফলে দলে নেই অভিষেক আনন্দ, ইসাম রহমান, আব্দুল সামাদ ও সাবোরিশ রবিচন্দ্রনের মতো নিয়মিত ক্রিকেটাররা। তাঁদের পরিবর্তে লাচলান ইয়ামামোতো-লেক, মাকোতো তানিয়ায়া ও ওয়াতারু মিয়াউচিদের মতো তরুণ ও উদীয়মান খেলোয়াড়রা ভারতের বিপক্ষে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন।

আইসিসি ডিজিটালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাপানি অলরাউন্ডার বেঞ্জামিন ইতো-ডেভিস এই চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য নিজের চরম উন্মুখতার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, বিশ্ব মঞ্চে জাপানের প্রতিনিধিত্ব করা এবং জাপানে ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার কাজটি তাঁর জন্য অত্যন্ত সম্মানের ও গর্বের। শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে কেবল মাঠে নামাই নয়, বরং জাপানি চেতনা ও নিজেদের সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ইত্তেফাক/এএম