কিভাবে পুরো পৃথিবীকে প্লাস্টিকের দূষণ থেকে রক্ষা করা যায় এবং এর শতভাগ রিসাইকেলিং করে পুনঃব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছে পরিবেশবাদী সংগঠন প্লাস্টিক ইনিশিয়েটিভ নেটওয়ার্ক। বর্তমানে প্লাস্টিকজনিত দূষণের ফলে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ সি বার্ড ও জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে এবং একই সঙ্গে পৃথিবীর কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পরিবেশের ভারসাম্যকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। যে প্লাস্টিক বর্জ্যটি আমরা যেখানে সেখানে ফেলছি, তা পরিবেশের ক্ষতি করে হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে টিকে থাকছে। কিন্তু আমরা যদি ঠিক একই বর্জ্য ডাস্টবিনে ফেলি, তাহলে এটি সর্বোচ্চ ১০ বার পর্যন্ত রিসাইকেল হতে পারে।
সংগঠনটির শুরুর গল্প জানতে চাইলে এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুমন চৌধুরী বলেন, ‘ভিএসও বাংলাদেশ নামের একটি বিদেশি এনজিওর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেখানে অ্যাকশন অ্যাট হোম নামের একটি প্রজেক্ট করার মাধ্যমে কার্যক্রমটি শুরু করা হয়। নাটোরে ৫৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে প্লাস্টিক দূষণের ওপর একটি সেশনের আয়োজন করি, যেখানে অনেক সাড়া পাই। তারপর দেশের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির পরিবেশপ্রেমী বন্ধু, সহপাঠী ও সহকর্মীসহ ১৯ জনকে সঙ্গে নিয়ে ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী প্লাস্টিক ইনিশিয়েটিভ নেটওয়ার্কের কার্যক্রম শুরু করি। যাদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মাদ রিয়াজ গৌরি, আসিফ আনোয়ার, নাজনিন সুরাইয়া, আতিকা ইবনে শেফা, মেরিলিন গোমেজ প্রমুখ। বর্তমানে প্লাস্টিক ইনিশিয়েটিভ নেটওয়ার্কের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে স্টিকার ক্যাম্পেইন, ক্যাম্পাস সেশন, সিগনেচার কালেকশন ক্যাম্পেইন, হিউম্যান চেইন র্যালি, ট্রি প্ল্যানটেশন ও ইকো-টুরিজম ক্যাম্পেইন। এছাড়াও ঢাকা শহরের প্লাসটিক দূষণের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরতে এবং এর বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে একটি রিসার্চ কনডাক্ট করছে প্লাস্টিক ইনিশিয়েটিভ নেটওয়ার্ক।’
প্লাস্টিক ইনিশিয়েটিভ নেটওয়ার্ক একটি নব্য জাতীয় সংগঠন। যারা দেশের ৭টি জেলাতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জেলাগুলো হলো ঢাকা, নাটোর, দিনাজপুর, রংপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা ও কক্সবাজার। যারা মূলত পরিবেশ সংরক্ষণ, প্লাস্টিকের সীমিত ও যথার্থ ব্যবহার, রিসাইকেলিং, ইকো ট্যুরিজম এবং পরিবেশবান্ধব পাট পণ্যের ব্যবহার নিয়ে কাজ করে। এর বর্তমান সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবী রয়েছে ৩৫০ জনেরও বেশি, যারা সফলতার সঙ্গে ২৮টি স্কুল এবং ৫টি ইউনিভার্সিটিতে প্লাস্টিকের দূষণ নিয়ে সেশনের আয়োজন করেছে এবং একই সঙ্গে এর বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে ২৫০০টি স্টিকার ক্যাম্পেইন এবং ২ হাজারেরও বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে। এর পাশাপাশি তারা প্রথমবারের মতো ভারতের দার্জেলিংয়ের একটি স্কুলের সঙ্গে তাদের স্টিকার ক্যাম্পেইন সফলতার সঙ্গে শেষ করেছে। এ প্রসঙ্গে সুমন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা প্রথমে শুরু করেছিলাম স্টিকার ক্যাম্পেইন দিয়ে। কারণ প্লাস্টিকের দূষণ কমাতে হলে দরকার সচেতনতা, যা মানুষের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের মাধ্যমে করা সম্ভব। এই লক্ষে আমরা ঢাকা শহরের ১৮০টি লোকাল বাস, ৯টি স্কুল ও কলেজ এবং হাতিরঝিল-রমনা পার্কসহ ২০টিরও বেশি পাবলিক প্লেসে স্টিকার ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে কার্যক্রমটি শুরু করেছি।’
প্লাস্টিক ইনিশিয়েটিভ নেটওয়ার্কের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিকের রিসাইকেলিংয়ের ওপর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে শতভাগ রিসাইকেলিং নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশের ৬৪টি জেলাসহ আন্তর্জাতিকভাবে তরুণদের নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা। এর পাশাপাশি সামাজিক গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিকের দূষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
