আঠারো—শিশু থেকে কৈশোরে উত্তীর্ণ হতে যাওয়া সিলেট শহরের একঝাঁক উদ্যমী তারুণ্যের সংগঠন। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্যের ‘এদেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে’ এই আহ্বানকে পূর্ণতা দিতে চায় এই তারুণ্য। আটারো সম্পর্কে জানাচ্ছেন রুমান হাফিজ
যেমন করে শুরু
আঠারোর উদ্যোক্তা আহমদ জারী বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই সমাজকল্যাণমূলক কাজের প্রতি আমার বেশ আগ্রহ। বিশেষ করে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোয়। আশপাশের পরিচিত অনেককে প্রায়ই বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে নানা সামাজিক কাজ করতে দেখে নিজের ভেতর একটা তাড়না ছিল নিজে কিছু একটা করার। এসএসসি পাস করার পর থেকে সেই তাড়না দ্বিগুণ হলো। এ বছর রমজানের কিছুদিন আগে বিষয়টা কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে শেয়ার করলাম। তারপর এ নিয়ে পরিচিত বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে গত ২৯ এপ্রিল প্রথম আলোচনায় বসা হয়। এরপর আঠারোর পথচলার সূচনা হয়।’
যাদের নিয়ে চলা
আঠারো যাদের নিয়ে পথ চলছে তাদের সবার পড়াশোনা এখন দ্বাদশ শ্রেণিতে। দেশ, মা, মাটি এবং মানুষের জন্য নিজের জায়গা থেকে কাজ করার স্বপ্ন দেখা তারুণ্যের মিলন এই আঠারো। তাদেরই একজন মিদহাদ আহমদ। প্রবাসী বাবার ছেলে আর দশজনের মতো ঘুরে ফিরে ফুর্তিতে আবদ্ধ না থেকে পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে আটারোর ডাকে ছুটে যায়। মিদহাদের মতো এমন তরুণদের একসঙ্গে নিয়ে আটারো চলছে, সামনে আরো প্রশস্থ পথে হাঁটার স্বপ্ন তাদের।
যত কাজে আঠারো
আঠারোর প্রথম প্রজেক্ট ‘Happiness project for children in need’-এর উদ্যোগ নেওয়া হয় মে মাসে। এই প্রজেক্টের আওতায় ৩০ জন বস্তিবাসী দরিদ্র শিশুদের হাতে ইদ সামগ্রী (পাঞ্জাবি, টুপি, ফ্রক, হিজাব, জায়নামাজ, আতর, তাসবিহ, সেমাই, গুঁড়া দুধ, চিনি, ম্যাকারনি ও চকোলেট) তুলে দেওয়া হয়।
আঠারোর দ্বিতীয় প্রজেক্ট ছিল বন্যার্ত অসহায় মানুষদের জন্য। এই প্রজেক্টের আওতায় সিলেটের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে আঠারোর পক্ষ থেকে ৫৮টি পরিবারের প্রায় ২৫০ জন মানুষের কাছে শুকনা খাবার ও ওষুধ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
চ্যালেঞ্জিং কাজ সহজে
সামাজিক সংগঠনগুলোর কাছে ফান্ডিংয়ের ব্যাপারটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। আঠারোর ফান্ডিং পদ্ধতি একটু ব্যতিক্রম। প্রতিটা প্রজেক্টের শুরুতে আঠারোর সকল সদস্যদের জন্য ন্যূনতম একটা অংক নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। সদস্যদের থেকে সংগ্রহের পর প্রয়োজনে আঠারো তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের দ্বারস্থ হয়।
এগিয়ে যাওয়ার দিনে
আঠারো খুব কমন সামাজিক কাজগুলো একটু ব্যতিক্রমভাবে আরো একটু সুন্দর করে করতে চায়। শিগগিরই আঠারো তার তৃতীয় প্রজেক্ট শুরু করবে। যার আওতায় আঠারো ১০-১৮ জন আর্থিকভাবে অসচ্ছল এসএসসি পরীক্ষার্থীকে আগামী ৫ মাস পড়াবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো রকম টাকা নেওয়ার চেয়ে আঠারো তার সাধ্যমতো তাদের শিক্ষা উপকরণ দিতে চেষ্টা করবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে নানাবিধ কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে আঠারোর। পাদপ্রদীপের আলোতে আসেনি, এমন শিশু-কিশোরদের জন্য নিবেদিত থাকতে চায় আঠারো।
