চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রপ্তানি বেড়েছে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ৩৮৮ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৫৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার। সেই হিসাবে গত জুলাইয়ে রপ্তানি বেড়েছে ৩০ কোটি ৬২ লাখ ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় ২ হাজার ৫৭২ কোটি টাকার সমপরিমাণ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানা গেছে। ইপিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচ্য সময়ে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। তবে গত বছরের এই সময়ে প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশ।
রপ্তানির প্রায় ৮৪ শতাংশই আসে গার্মেন্টস পণ্য থেকে। ইপিবির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত জুলাইয়ে গার্মেন্টস রপ্তানি বেড়েছে প্রায় পৌনে ১০ শতাংশ। একই সময়ে অন্যান্য খাতের রপ্তানিতে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি না হওয়ায় সার্বিকভাবে রপ্তানিতে প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশেষত হিমায়িত খাদ্য, কৃষিজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সাটাইলসহ ছোটো-বড়ো কয়েকটি রপ্তানি খাতে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি হয়নি। বরং কৃষিসহ কিছু খাতে রপ্তানি না বেড়ে উলটো কমে গেছে।
গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। আলোচ্য সময়ে ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৪ হাজার ৫৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ পণ্য। পূর্বের অর্থবছরের চেয়ে রপ্তানি বেড়েছিল ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এছাড়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৪ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রপ্তানি কমেছিল ৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে প্রায় পৌনে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৫০ কোটি ডলারের।
রপ্তানিকারকেরা বলছেন, আগামী মাসগুলোতে রপ্তানির প্রধান খাত গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবণতা আঁচ করা যাচ্ছে। বড়ো ধরনের কোনো ব্যত্যয় না হলে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
তবে রপ্তানিতে একক পণ্যনির্ভরতা দিনে দিনে বেড়ে যাওয়া অর্থনীতির জন্য সুখকর নয় বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, কয়েক বছর আগে রপ্তানিতে গার্মেন্টস পণ্যের অবদান ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশের মধ্যে থাকলেও এখন তা ৮৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বাদবাকি ৩০টি খাত মিলিয়ে মোট রপ্তানির ১৬ শতাংশ আসে। অর্থাত্, এটি পরিষ্কার যে রপ্তানিতে গার্মেন্টস পণ্যের নির্ভরতা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী ইত্তেফাককে বলেন, এই প্রবণতা অর্থনীতির জন্য স্বস্তির নয়। কেননা, কোনো কারণে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের গার্মেন্টস পণ্যের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পুরো রপ্তানিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এজন্য গার্মেন্টস পণ্যের পাশাপাশি অন্যান্য খাতের রপ্তানি বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
গত জুলাইয়ে ৩৮২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের রপ্তানির মধ্যে গার্মেন্টস খাত থেকেই এসেছে ৩২১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। গার্মেন্টসের বাইরে রপ্তানির তালিকায় থাকা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো কৃষি ও কৃষিজাতীয় পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, প্লাস্টিক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাতপণ্য, হোম টেক্সটাইলসহ আরো কিছু খাত। পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আলোচ্য সময়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি কমেছে ২৫ শতাংশ। হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি দেড় শতাংশ বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৪ শতাংশ কম হয়েছে। প্লাস্টিকের পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৩৭ শতাংশ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ১৬ শতাংশ। পাটপণ্যের রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশেরও কম। হোম টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি কমেছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ শতাংশ।
