বৃষ্টিবিঘ্নিত পাঁচ ওভারের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতকে প্রায় হারিয়েই দিচ্ছিল জাপান। শেষ বল পর্যন্ত দুর্দান্ত লড়াই চালিয়ে মাত্র ২ রানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। তবে ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে শেষ ওভারের একটি আম্পায়ারিং সিদ্ধান্ত, যেখানে ওয়াইড বলের সিদ্ধান্ত বদলানোর ঘটনায় ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে আম্পায়ারদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন অনেকে।
মঙ্গলবার জাপানের সানো ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হয় ভারত ও জাপান। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি কমিয়ে পাঁচ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল নির্ধারিত ৫ ওভারে ৪ উইকেটে ৩২ রান সংগ্রহ করে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে জাপান দুর্দান্ত লড়াই করে এবং ৩ উইকেটে ৩০ রান তোলে। তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় শেষ ওভারের নাটকীয়তায়। অক্ষর প্যাটেলের করা একটি বল লেগ সাইডে চলে গেলে জাপানের ব্যাটার আলেকজান্ডার শিরাই-প্যাটমোর রিভার্স সুইপের চেষ্টা করেন। বলটি উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে জমা পড়ার পর অনফিল্ড আম্পায়ার প্রথমে ওয়াইডের ইশারা দেন, যার ফলে জাপানের রান বেড়ে দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২৮। কিন্তু ভারতীয় ফিল্ডারদের জোরালো আপত্তির মুখে আম্পায়ার তার সিদ্ধান্ত বদলে বলটিকে ‘বৈধ’ ঘোষণা করেন। এতে জাপানের রান আবার ২৭ এ নেমে আসে এবং বলের হিসাবও পরিবর্তিত হয়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে ৩০ রান করতে সক্ষম হওয়ায় ২ রানের নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত।
এই ঘটনার পরই ভারতীয় দলের আচরণ ও আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদল নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা। উইজডেনের সম্পাদক বেন গার্ডনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ঐতিহাসিক এক অঘটনের মুহূর্তটিতে ভারত যেভাবে ওয়াইডের সিদ্ধান্ত বদলাতে আম্পায়ারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, তা ‘সত্যিই লজ্জাজনক’। ক্রিকেট লেখক কার্তিক কান্নানও ভারতের এই প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করে জানান, প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ভুল হলেও খেলোয়াড়দের এমন আক্রমণাত্মক চাপ প্রয়োগ করা অনুচিত ছিল। কোড স্পোর্টসের প্রধান ক্রিকেট লেখক ড্যানিয়েল চেরনি প্রশ্ন তুলেছেন, খেলোয়াড়দের এমন আচরণ আম্পায়ারের কর্তৃত্ব ও খেলার নিয়মের প্রতি আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
এদিকে, নিয়মের দিক থেকে আইসিসির এক আম্পায়ারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ব্যাটার রিভার্স সুইপ বা সুইচ হিট করার চেষ্টা করলে লেগ সাইডের ওয়াইডের পরিধি পরিবর্তিত হয়; সেই হিসেবে প্রথম সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল এবং আম্পায়ারের সংশোধনী নিয়মসম্মত ছিল। তবে নিয়ম যা-ই হোক না কেন, শেষ মুহূর্তের ওই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন ও জাপানের ঐতিহাসিক জয়ের সুযোগ হাতছাড়ার ঘটনাটি ক্রিকেট মহলে বড় আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।

