বৃষ্টি, বন্যা ও জলবদ্ধতার কারণে জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতির হার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এসময় খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, জুলাই মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ হয়েছে, যা জুন মাসে ছিল ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ। গতকাল শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেকের বৈঠক শেষে বিবিএসের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, বন্যার কারণে অনেক শাক-সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে সরবরাহ চেইনের মধ্যে সমস্যা ছিল। ঈদকে কেন্দ্র করেও মানুষ কেনাকাটা বেশি করেছে। তাই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। তবে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিও মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলেছে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।
বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ হয়েছে। গত মাসে এই খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে পরিধেয় বস্ত্রাদি, বাড়িভাড়া, গ্যাস, চিকিত্সাসেবা, শিক্ষা উপকরণ এবং বিবিধ সেবা খাতের দাম বেড়েছে।
অন্যদিকে জুলাই মাসে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪২ শতাংশে, যা তার আগের জুন মাসে ছিল ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে ডিম, শাক-সবজি, ভোজ্যতেল, মসলা ও কোমল পানীয় দ্রব্যাদির দাম বেড়েছে।
জুলাই মাসে গ্রামীণ পর্যায়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। গ্রামীণ পর্যায়ে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৭ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।
অন্যদিকে জুলাই মাসে শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশে, যা তার আগের মাস জুনে ছিল ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এসময় শহরাঞ্চলে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।
