আমাদের দৈনন্দিন কাজের সহায়ক ও ব্যবহারসামগ্রীর মধ্যে কম্পিউটার উল্লেখযোগ্য। সাধারণ ব্যবহারকারীরা উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে থাকেন। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের চেয়েও ভালো সুবিধা পেতে হলে আপনাকে উইন্ডোজ সার্ভার ব্যবহার করতে হবে। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ও উইন্ডোজ সার্ভারের মধ্যে রয়েছে অনেক পার্থক্য। সাধারণত এই পার্থক্যগুলো খুব সহজে বুঝতে পারা যায় না। এ লেখায় উইন্ডোজ সার্ভার ও উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে বিস্তর আলোচনা করা হয়েছে। চলুন দেখে নেওয়া যাক পার্থক্যগুলো সম্পর্কে—
উইন্ডোজ সার্ভার
উইন্ডোজ সার্ভার হচ্ছে একটি অপারেটিং সিস্টেম, যা বিশেষ করে সার্ভার কম্পিউটার ম্যানেজ করার জন্য ইউজ করা হয়ে থাকে। প্রায় সব ক্ষেত্রে উইন্ডোজ সার্ভার এডিশনকে বিজনেস সেটিংয়ে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। উইন্ডোজ সার্ভার নাম হলেও এটি দেখতে কিন্তু সাধারণ উইন্ডোজ ভার্শনের মতোই। আগে উইন্ডোজের গ্রাহকের ওপর ভিত্তি করেই উইন্ডোজ সার্ভার ভার্শনের ডিজাইন করা হয়। যেমন—উইন্ডোজ সার্ভার ২০০৩ আসলে উইন্ডোজ এক্সপির সার্ভার ভার্শন ছিল। আর বর্তমানের উইন্ডোজ সার্ভার ২০১৬ এবং ২০১৯ হচ্ছে উইন্ডোজ টেন-এর সার্ভার ভার্শন।
সাধারণ উইন্ডোজ ও উইন্ডোজের সার্ভার ভার্শন একই কোডের ওপরে তৈরি করার ফলে এগুলো অনেকটা একই ফাংশন পারফরম করে। এই জন্য নর্মাল উইন্ডোজ আর উইন্ডোজ সার্ভারের স্টার্ট মেনু, ট্যাস্কবার, আইকন ইত্যাদি দেখতে একই রকম। এই দুই ভার্শনের উইন্ডোজেই একই প্রোগ্রাম, যেমন—ব্রাউজার, ফটো এডিটর ইত্যাদি ইনস্টল করে ব্যবহার করা যায়। তবে এই দুই ভার্শনের উইন্ডোজে মিলের থেকে অমিলগুলোই বেশি।
এন্টারপ্রাইজ ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার
আপনি উইন্ডোজ সার্ভার বুট করার পরে যদি আপনার জিইউআই এনাবল করা থাকে সেক্ষেত্রে বুটের সময় সার্ভার ম্যানেজার প্রোগ্রাম লঞ্চ হয়। বলতে পারেন দুটি অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে এটা প্রথম বড়ো পার্থক্য। এখানে সার্ভার স্পেসিফিক অনেক ফিচার অ্যাড করা যেতে পারে, যেমন : Windows Deployment services, DHCP services, এবং Active Directory Domain Services. — এই ফিচারগুলো সাহায্যে অপারেটিং সিস্টেমকে আলাদা মেশিন থেকে রিমোটলি চালানোর জন্য সহায়ক করে তোলে। ওয়েব সার্ভার সেটআপ, ক্লায়েন্ট মেশিনের জন্য স্ট্যাটিক আইপি সেটআপ, ডোমেইন সেটআপ, ডোমেইন ইউজার সেটআপ এই জিনিসগুলো উইন্ডোজ টেন-এ ডিফল্টভাবে থাকে না। তবে তৃতীয়পক্ষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে উইন্ডোজ টেন-এ এগুলোকে এনাবল করা যেতে পারে।
সহজে হার্ডওয়্যার সাপোর্ট করে
উইন্ডোজ টেনের তুলনায় উইন্ডোজ সার্ভার এডিশন আরো বেটার হার্ডওয়্যার সাপোর্ট করার ক্ষমতা রাখে। যেখানে উইন্ডোজ টেন সর্বোচ্চ ২ টেরাবাইট সাইজ পর্যন্ত র্যাম সাপোর্ট করতে পারে, সেখানে উইন্ডোজ সার্ভার ২৪ টেরাবাইট পর্যন্ত র্যাম অ্যালাউ করে। ডেক্সটপ ব্যবহারকারীদের এত হাই ক্যাপাসিটি র্যামের দরকার পড়ে না, কিন্তু সার্ভারের হিসাব আলাদা। সেখানে অনেক ব্যবহারকারী থাকে এবং অনেক অ্যাপ্লিকেশন রান করাতে হতে পারে। শুধু মারাত্মক ক্যাপাসিটির র্যাম সাপোর্টই নয়, উইন্ডোজ সার্ভার ৬৪টি সিপিইউ সকেট সাপোর্ট করতে পারে। এর মানে, একসঙ্গে এটি ৬৪টি পর্যন্ত সিপিইউ চালাতে পারে। যেখানে উইন্ডোজ টেন হোম এডিশন একটি ফিজিক্যাল সিপিইউ এবং উইন্ডোজ টেন-প্রো দুটি ফিজিক্যাল সিপিইউ সাপোর্ট করতে পারে। উইন্ডোজ টেনের ৩২ বিট ভার্শন কেবল ৩২ সিপিইউ কোর সাপোর্ট করে এবং ৬৪ বিট ভার্শন ২৫৬ কোর পর্যন্ত সিপিইউ সাপোর্ট করে; কিন্তু উইন্ডোজ সার্ভার ভার্শনে কোনো কোর লিমিট নেই।
আলাদা ফিচার
উইন্ডোজ সার্ভার এডিশন, বিশেষ করে এন্টারপ্রাইজ ইউজের জন্য তৈরি করা, এতে কনজ্যুমার লেভেল ফিচারগুলো যেমন কর্টানা, মাইক্রোসফট স্টোর, মাইক্রোসফট এজ, টাইমলাইন ইত্যাদি ইনক্লুড করা থাকে না। এতে আগে থেকেই উইন্ডোজ টেনের মতো অনেক অ্যাপ ব্যান্ডেল আকারে ইনস্টল করা থাকে না। উইন্ডোজ সার্ভার, বিশেষ করে প্রো ইউজারদের জন্য ডিজাইন করা, এতে পাওয়ার ইউজার ফিচার যেমন কম্যান্ড প্রম্পট এবং আলাদা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ টুলগুলো থাকে। উইন্ডোজ সার্ভারে সাধারণ মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট দিয়ে সাইন-ইন করা যায় না, বরং লোকাল অ্যাকাউন্ট বা ডোমেইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সাইন-ইন করা হয়।
দাম যেমন হতে পারে
আপনার কাছে যদি উইন্ডোজ সেভেন, এইট, টেনের কি থাকে, সেক্ষেত্রে ফ্রিতে উইন্ডোজ টেন ইনস্টল করা যেতে পারে। তারপরে অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে, যারা অনেক কম দামে উইন্ডোজ টেন কি বিক্রি করে থাকে। অপর দিকে উইন্ডোজ সার্ভার ২০১৬ বা ২০১৯-এর কি কেনা এতটা সহজ ব্যাপার নয় (যেহেতু উইন্ডোজ সার্ভার এডিশন বিশেষ করে বিজনেসের জন্য তৈরি করা)।
হ্যাঁ, উইন্ডোজ সার্ভার এডিশনের লাইসেনস অনেক বেশি দামি। আপনি কেমন বিজনেস রান করেন, আপনার কতগুলো সার্ভার কম্পিউটার রয়েছে ইত্যাদি ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে উইন্ডোজ সার্ভার লাইসেনসের দাম ৫০০ থেকে ৬ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। উইন্ডোজ সার্ভার, বিশেষ করে বিজনেসের জন্যই তৈরি করা হয়েছে এবং সে অনুসারে এর দাম সেট করা হয়েছে।
আপনি যদি ফ্রেশ ইনস্টল করা উইন্ডোজ সার্ভার এবং উইন্ডোজ টেন বুট করেন, সেক্ষেত্রে প্রথম নজরে পার্থক্য করতে গিয়ে অবাক হতে পারেন। দুটিরই একই ডেক্সটপ, একই স্টার্ট বাটন, একই ট্যাস্কবার, এমনকি একই ক্রোম ব্রাউজার দুটিতেই ইনস্টল করে চালানো যাবে। কিন্তু এই আর্টিকেল পড়ার পরে এখন আপনি নিশ্চয় সাধারণ উইন্ডোজ ও উইন্ডোজ সার্ভারের মধ্যকার পার্থক্যগুলো খুঁজে পেয়েছেন।
