টাকা-পয়সার বদলে পাচ্ছিলেন চেক বই, বিরক্ত হয়ে পেশা বদলালেন সিঁধেল চোর

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৪

প্রায় ১৮ বছর ধরে সিঁধ কেটে চুরি করতেন এক ব্যক্তি। তবে চুরি করতে গিয়ে পরপর কয়েকটি বাড়িতে টাকা-পয়সার বদলে জনতা ব্যাংকের চেক বই পাওয়ার পর বদলে যায় তার চিন্তাভাবনা। এরপর চুরি ছেড়ে চায়ের দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। বর্তমানে একটি মুদি দোকানের মালিক ওই ব্যক্তি জনতা ব্যাংকের গৌরীপুর বাজার শাখায় এসে নিজের নামে একটি হিসাব খুলেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারে জনতা ব্যাংকের শাখায় ওই ব্যক্তি হিসাব খুলতে আসেন। পরে শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দীনের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি নিজের অতীত জীবনের কথা জানান। পরে ঘটনাটি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তুলে ধরেন শাখা ব্যবস্থাপক।

জসীম উদ্দীনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগেও ওই ব্যক্তি সিঁধ কেটে মানুষের বাড়িতে ঢুকে টাকা-পয়সা চুরি করতেন। প্রায় ১৮ বছর ধরে তিনি এ কাজ করেছেন। এ সময় কয়েকবার ধরাও পড়েছেন।

শাখা ব্যবস্থাপক জানান, প্রায় তিন বছর আগে এক রাতে পাশের গ্রামের একটি বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ওই ব্যক্তি অনেক কষ্টে সিঁধ কেটে ঘরে ঢোকেন। পরে আলমারি খুলে ড্রয়ারগুলো তল্লাশি করেও কোনো টাকা-পয়সা পাননি। সেখানে তিনি শুধু একটি জনতা ব্যাংকের চেক বই পান। চেক বইটিতে জনতা ব্যাংক লিমিটেড, গৌরীপুর বাজার শাখার নাম লেখা ছিল।

একই রাতে পাশের আরেকটি বাড়িতেও চুরি করতে যান তিনি। সেখানেও টাকা-পয়সা না পেয়ে খালি হাতে ফিরে আসেন।

এরপরের দিন অন্য একটি গ্রামের একটি বাড়িতে চুরি করতে যান ওই ব্যক্তি। আগে থেকেই তার কাছে খবর ছিল, বাড়ির সবাই আত্মীয়ের মৃত্যুর কারণে বাইরে ছিলেন। ঘরের মেঝের নিচে একটি মুখবন্ধ কলসি পোঁতা থাকার কথাও জানতেন তিনি।

গভীর রাতে ঘরে ঢুকে মেঝে খুঁড়ে কলসিটি বের করেন। কিন্তু কলসি খুলে সেখানে কোনো টাকা-পয়সা পাননি। এর ভেতরেও ছিল জনতা ব্যাংকের একটি চেক বই ও কয়েকটি জমা রসিদ। সেগুলোতেও জনতা ব্যাংক লিমিটেড, গৌরীপুর বাজার শাখার নাম লেখা ছিল।

ব্যাংক ব্যবস্থাপকের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর ওই ব্যক্তি ভাবতে শুরু করেন, মানুষ এখন আর ঘরে টাকা রাখে না; ব্যাংকে টাকা রাখে। এরপর ধীরে ধীরে চুরির প্রতি তার আগ্রহ কমে যায়। একপর্যায়ে তিনি চুরি ছেড়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।

পরে এলাকায় একটি ছোট চায়ের দোকান দেন তিনি। ধীরে ধীরে ব্যবসা বাড়িয়ে বর্তমানে একটি মুদি দোকানের মালিক হয়েছেন। তার ছেলেমেয়েরা স্কুলে পড়ে। ব্যাংক ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি জানান, এখন তিনি ও তার স্ত্রী নিয়মিত নামাজ পড়েন ও রোজা রাখেন। ব্যবসা করে সংসার চালানোর পর প্রতি মাসে কিছু টাকা জমতে শুরু করায় ব্যাংকে একটি হিসাব খোলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

ব্যাংক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ওই ব্যক্তি মনে করেন জনতা ব্যাংকের ‘উসিলায়’ তার জীবনে পরিবর্তন এসেছে। তাই এবার সঞ্চিত টাকা রাখার জন্যও তিনি জনতা ব্যাংকেই হিসাব খুলতে এসেছেন।

জসীম উদ্দীন আরও লিখেছেন, লোকটি তার কাছে নিজের অতীতের কথা অকপটে বলেছেন। তার মতে, ওই ব্যক্তি সত্যিই নিজের জীবন থেকে বদলে গেছেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি