হংকংয়ের অর্থনীতি চীনের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৯, ২০:৫৯

হংকংয়ে তিন মাস ধরে যে গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভ চলছে তার বিরুদ্ধে চীন কঠিন পদক্ষেপ নিতে পারে। গত দুই দশক ধরে বেইজিং ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছে তাদের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল থেকে যেটা কি না এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। বিবিসির চীনের সম্পাদক হুয়ার্ড ঝাং বলছেন, লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে বেইজিং হংকংয়ের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত হচ্ছে। গত কয়েক দিনে বেইজিং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ন মনোভাব দেখাচ্ছে।

সম্প্রতি চীনের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিক্ষোভ-বিরোধী পোস্ট বেড়ে গেছে। এক বিরল সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেছেন ‘যদি হংকং সরকারের দ্বারা পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যায় তাহলে কেন্দ্রীয় সরকার সেটা বসে বসে দেখবে না’। দ্বীপটির অর্থনীতি ইতোমধ্যে এই ১১ মাসের বিক্ষোভের প্রভাব বুঝতে পারছে। স্থানীয় অর্থনীতির ২০ শতাংশ আসে পর্যটন এবং খুচরা ব্যবসা থেকে। এই খাতগুলো বিক্ষোভের কারণে সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। ব্যবসায়ী, বিমানবন্দরের কর্মী এবং সবচেয়ে কঠিন ব্যাপার হলো সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীরা এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। যার ফলে এশিয়ার বাণিজ্যিক এই বিশাল কেন্দ্রে বাণিজ্যিক কার্যক্রম প্রভাবিত হয়েছে। দক্ষিণ চায়না মর্নিং পোস্ট খবরের কাগজের হিসাব অনুযায়ী একদিনের (৫ আগস্ট) বিক্ষোভে ৩০০ মিলিয়ন থেকে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন হংকং ডলার খরচ হয়েছে; কিন্তু যদি চীন সিদ্ধান্ত নেয় বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দেবে তাহলে আরো বড়ো অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়তে হবে বলছিলেন ঝাং। তিনি বলছিলেন—‘আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং খরচবিহীন বন্দর হিসেবে হংকংয়ের যে মর্যাদা আছে সেটা অপূরণীয়ভাবে ক্ষতি হয়ে যেতে পারে’। ‘বেইজিং আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে। সব পশ্চিমা সরকার চীনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নতুন করে মূল্যায়ন করবে এবং চীনের অর্থনীতি আর বিশ্বে তাদের যে মর্যাদা সেটার জন্য ভুগতে হতে পারে’।

হংকং চীনের জন্য অর্থনীতি উভয়—বাণিজ্য এবং আর্থিক খাতের চাবিকাঠি। ২০১৭/১৮ সালে চীন ১২৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি বিদেশি বিনিয়োগ পায় যেটা ৯৯ বিলিয়ন ডলার আসে হংকং হয়ে। এর অর্থ মোট অর্থ প্রবাহের ৮০ শতাংশ আসছে হংকং থেকে। এর কারণ হংকংয়ের আইন এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ কোম্পানিগুলোর জন্য একটা নিরাপদ বিনিয়োগের স্থান করে দিয়েছে। ঝাং বলছিলেন—এই অঞ্চল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটা বিশেষ সুবিধা পায়। সেগুলো বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শুল্কের ক্ষেত্রে। আর এই সুবিধাটা চীন ভোগ করে অন্যভাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর যে শুল্ক নির্ধারণ করেছে, চীন যদি সেটা হংকং হয়ে ব্যবসাটা করে তাহলে তাদের ওপর আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐ শুল্কের বোঝা বইতে হয় না; কিন্তু এই বিক্ষিপ্ত অবস্থা কি কোম্পানিগুলোকে ভীত করবে এবং অর্থ চীনের বাইরে চলে যাওয়া বেড়ে যাবে? ঝাং বলছেন ‘হংকংয়ে জনসংখ্যা ৭০ লাখ। তাদের রিজার্ভ রয়েছে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ব্রাজিলের চেয়ে বেশি’।

চীনের বৈদেশিক অর্থের রিজার্ভ বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো যার পরিমাণ ৩ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। যাই হোক বাণিজ্যযুদ্ধ চীনের অর্থনীতিকে বড়ো ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে। এই অবস্থায় কর্তৃপক্ষের দরকার সব সম্পদ দিয়ে চীনের মুদ্রা ইউয়ানের অবস্থা স্থিতিশীল রাখা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কোম্পানিগুলোর জন্য আরো উত্সাহিত করেছে তাদের ব্যবসাকে অন্য দেশে নিয়ে যেতে। গতবছর মার্কিন চেম্বার অব কর্মাস একটা জরিপ চালিয়ে দেখে—দক্ষিণ চীনে তাদের ৭০ শতাংশ সদস্য দেশটির বাইরে ব্যবসা পুনঃস্থাপন করার কথা বিবেচনা করছে।