বঙ্গবন্ধুর লেখা ‘অসমাপ্ত আত্নজীবনী’তে মধুমতি নদীর প্রসঙ্গ এসেছে একাধিকবার। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের সমাধিসৌধ এবং তার পাশ দিয়ে প্রবাহিত আরেক ছোট্ট নদী বাঘিয়া। বঙ্গবন্ধুর শৈশবের নদী বাঘিয়া গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার বর্ণি বাঁওর থেকে উদ্ভূত। এই বাঁওর মূলত মধুমতির পতিত ধারা, অশ্বখুরাকৃতি জলাভূমি। বাঘিয়ার এক ধারা মধুমতিতে নেমেছে, অপরটি চলে গেলে কোটালীপাড়ার দিকে।
বাঘিয়া নদীতে কেটেছে বঙ্গবন্ধুর শৈশব-কৈশোরের দিনগুলি। শিশু মুজিব এই নদীতেই সাঁতার কেটেছেন, গোসল করেছেন, বৈকালিক হাওয়া খেয়েছেন, নিশ্বাস নিয়েছেন। বাঘিয়া নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজন হয়ে আসছে বহু বছর ধরেই। একসময় এই নদীতে নৌকা ও বড় বড় লঞ্চ চলত। কিন্তু এখন এই নদীতে বর্ষা মৌসুম ছাড়া নৌকা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। কেননা পানির প্রবাহে টান পড়েছে, নদীতে জেঁকে বসেছে কচুরিপানা ও শেওলা। সংস্কারের অভাবে নদীটি মরে যেতে বসেছে! বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের পাশেই আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা শোনা যাচ্ছে (উল্লেখ্য, ভারতের জাতির জনক মহাত্না গান্ধীর জন্ম-জনপদ গুজরাটের আরব সাগর তীরবর্তী পোরবান্দারে স্মৃতিবিজড়িত অসমাবতী নদীও পরিণত হয়েছে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র। এ রকম আরো উদাহরণ আছে)। বঙ্গবন্ধুর শৈশবের নদী বাঘিয়াও পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র হতে পারে।
সাধন সরকার, ৫/এ নারিন্দা লেন, নারিন্দা, সূত্রাপুর, ঢাকা
