দেশের চেয়ে প্রতিপক্ষের প্রশংসায় ঢুলি

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৭

ফিফা আসিয়ান কাপ ফুটবলে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের পর বাংলাদেশের আমেরিকান কোচ থামস ঢুলি মালয়েশিয়ান ফুটবলারদের প্রশংসা করেছেন। দেশের মানুষ ম্যাচটা দেখেছেন। তারা বাংলাদেশের ফুটবলারদের খেলার মান বিচার করেছেন। মালয়েশিয়ান ফুটবলাররা কতটা ভালো খেলেছেন, সেই বিশ্লেষণ করেননি। মালয়েশিয়ান ফুটবলাররা যতটা না ভালো খেলেছে তার চেয়ে বাজে পারফরম্যান্স করেছেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। 

থমাস ঢুলি বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলা একজন খেলোয়াড়। তিনি মালয়েশিয়ার ফুটবলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে উচ্ছ্বসিত। মালয়েশিয়ান ফুটবলারদের খেলা তার মন ভরিয়ে দিয়েছে। সংবাদমাধ্যমে দেখা গেছে থামাস ঢুলি মালয়েশিয়ার আক্রমণভাগের ফুটবলারদের খেলা দেখার কথা স্মরণ করিয়েছেন। বাংলাদেশের ফুটবল দর্শক একটি বারও মালয়েশিয়ান ফুটবলারদের কথা বলেননি।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার জিদান ইউসুফ, সামিত সোম, ফারহান আলী ওয়াহিদ, ফাহমিদুল ইসলাম, সুকি ইতোফুসা, হামজা চৌধুরীরা খেলেছেন। এই তালিকায় একমাত্র হামজা ছাড়া বাদবাকি যারা আছেন তারা খেলার মাঠে নামার আগে আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছেন। বাফুফের প্ল্যাটফরমে তাদেরকে নিয়ে উচ্ছ্বাসের ছড়াছড়ি। কিন্তু দিন শেষে সেই হামজা চৌধুরী থাকছেন সবার ওপরে। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে একমাত্র হামজা চৌধুরী সবার নজরে পড়েছেন। ফুটবল দুনিয়ার অভিজাত মঞ্চে খেলেন তিনি। হামজার কোয়ালিটির কাছে অন্যরা ধূলিকণার সমান।

কাজী সালাহউদ্দিন বাফুফের সভাপতি থাকাকালীন হামজাকে বাংলাদেশে আনার বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছিল। এরপর আর হামজা মানের খেলোয়াড়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশের ফুটবল। শুধু হয়েছে কথা, আর হয়েছে নিজেদের মুখ দেখানো, নিজের পরিচিতি বাড়ানো।

হামজাকে দেখে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারের মিছিল আসতে শুরু করলে হামজাকে স্পর্শ করার মতো কেউ আসেনি। যারা বাংলাদেশে খেলতে আসতে রাজি তারা নিজ উদ্যোগে যোগাযোগ করেছেন। আর প্রচার হয়েছে তার বিপরীত। কথার চেয়ে কাজ কম, কাজের চেয়ে কথা বেশি।

জাতীয় দল এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে বিদেশি বসবাসকারি কেউ চাইলেই ট্রায়াল দিতে পারবেন। অথচ দেশের ফুটবলাররা ট্রায়াল দেওয়ার সুযোগ পান না। ঢুলি লিগের খেলা দেখার সুযোগ পান নাই। কিন্তু জাতীয় দল গড়ছেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদেরকে ট্রায়ালের সুযোগ করে দিচ্ছেন। তাহলে যারা ক্লাব ফুটবলে খেলল তারা কেন ট্রায়ালের ডাক পান না।

আসিয়ান কাপের আগে কোচ থমাস ঢলি সাংবাদিকদেরকে অনুশীলনে কয়েক দিন প্রবেশ করতে দেননি। তিনি মনযোগ দিয়ে কাজটা করতে চান। দিন শেষে পরীক্ষার ফল দেশের ফুটবল অনুরাগীদের হাতাশ করল।

লিগের খেলা ছিল না। ফুটবলাররা ক্লাব অনুশীলনে ছিলেন না। খ্যাপ খেলে বেড়িয়েছেন। সেদিকে বাফুফের কোনো নজরদারিও ছিল না। আর ফুটবলারদের কথা হচ্ছে পৃথিবীর সব দেশে ঘরোয়া লিগ শুরু হয়ে গেছে। আমরা লিগ খেলতে চাই, আপনারা কর্মকর্তারা লিগটাকে সময় মতো শুরু করতে পারেন না। এই দোষ কি আমাদের, নাকি আপনারা যারা ফুটবলের পরিকল্পনা করেন তাদের।

বাফুফের সদস্য ইকবাল হোসেন। জাতীয় দলের টিম লিডার। তিনিও বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশ। একই সঙ্গে তিনি বাস্তবতা বুঝার চেষ্টা করছেন। বলছেন, 'এটা প্রথম ম্যাচ ছিল। একটা ম্যাচ দিয়ে বিচার করা ঠিক হবে না, এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে আসতে পারিনি। আমরা তো জানি-ই না আমাদের অবস্থান কী।' ইকবাল হোসেনও মেনে নিলেন ঘরোয়া ফুটবলের লিগ নেই। খেলোয়াড়রা খেলায় ছিলেন না। এমন সময় বিড় ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। আমরা দেখছি দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ভুল শুধরিয়ে কীভাবে মাঠে ফেরা যায়।'

ইকবাল সাবেক ফুটবলার, বাফুফের সদস্য। তিনি অনেক কথা বলতে পারছেন না। তবে অনেকের প্রশ্ন কোচ কেন গোলপোস্টের নিচে শ্রাবণকে রাখলেন। রক্ষণে বাজে খেলছিল, কেন দ্রুত পরিকল্পনা পরিবর্তন করেননি কোচ। বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলা একজন ফুটবলার থমাস ঢুলিই বা কেন বাংলাদেশের পরিস্থিতি চেয়ে চেয়ে দেখলেন, আর পরীক্ষা চালালেন। দিন শেষে তো বাংলাদেশের ফুটবলের সর্বনাশ হয়েছে। কোচরা তো চলে যাবেন, থাকবেন এ দেশের মানুষ।

ইত্তেফাক/জেডএইচ