আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা, ফটকে রামদা-চাপাতি দিয়ে কোপানোর অভিযোগ  

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৫৩

রাজধানীর আদাবরে একটি আটতলা বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রামদা, চাপাতি ও পিস্তলসহ ১৫-২০ জনের একটি দল বাড়িটিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ সময় বাড়ির মূল ফটক, সিসিটিভি ক্যামেরা ও জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা বাড়ির সামনে এসে প্রথমে টাকা দাবি করেন। এ সময় তারা বলেন, ‘টাকা দে। বাসায় থাকিস, টাকা দিবি না?’ এ কথা বলতে বলতে তারা বাড়ির মূল ফটকে কোপাতে শুরু করেন। পরে জানালার কাচ ভাঙচুর করে বাড়ির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে গেট খুলতে না পেরে কয়েক মিনিটের মধ্যে ভাঙচুর করে চলে যান।

শ্যামলী হাউজিংয়ের ওই বাড়িটির মালিক ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান। তার ভাতিজা মনির হোসেন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও একবার বাড়িটি দখল করা হয়েছিল।

শনিবারের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মনির হোসেন বলেন, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ১৫-২০ জন লোক তাদের বাড়ির সামনে আসেন। কিছুক্ষণ বাড়িটি পর্যবেক্ষণের পর চারজন মূল ফটকের সামনে আসেন। তাদের মধ্যে দুজনের হাতে চাপাতি, একজনের হাতে রামদা ছিল। ফটকের একটু দূরে পিস্তল হাতে একজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনিই হামলার নির্দেশনা দিচ্ছিলেন বলে দাবি করেন মনির।

মনির হোসেন বলেন, প্রথমে এসেই তারা বাড়ির মূল ফটকের গেট খুলতে বলেন। সবাইকে বের হয়ে যেতে বলেন। কিন্তু বের না হওয়ায় বাইরে থেকে বলা শুরু করেন, ‘টাকা দে! বাড়িতে থাকিস, টাকা দিস না। বের হ।’ এই কথা বলতে বলতে চাপাতি, রামদা দিয়ে গেটে এলোপাতাড়ি কোপানো শুরু করে। গেটের সামনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা, জানালার কাচ ভাঙচুর করে। ইটের টুকরা দিয়ে দুইতলার আরও দুটি জানালার কাচ ভেঙে ফেলে। বাড়ির ভেতরে ঢুকতে না পেরে পাঁচ মিনিটের মধ্যে ভাঙচুর করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

মনির হোসেনের অভিযোগ, ভাঙচুর চলাকালে তিনি জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। তবে পুলিশ প্রায় তিন ঘণ্টা পর সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তার দাবি, পুলিশ সময়মতো এলে হামলাকারীদের আটক করা সম্ভব হতো।

পরে এ ঘটনায় আদাবর থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মনির হোসেন। তবে এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা তারা জানেন না। 

মনির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ভয়ের মধ্যে আছি। ভয়ে বাসা থেকে বের হতে পারছি না। আবার কখন কী হয়, বুঝতে পারছি না। এভাবে তো চলা যায় না। আমাদের সাহায্য করুন।’

আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার পর পুলিশ বাড়িটি পরিদর্শন করেছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। তদন্তে কোনো অগ্রগতি হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।

মনির হোসেন দাবি করেন, ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট খোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি দখল করে নেন। পরে আদাবর থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। একপর্যায়ে তারা আদালতে মামলা করেন। আদালত আদাবর থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে।

মনির হোসেন জানান, গত ১২ মার্চ তারা বাড়িটির দখল ফেরত পান। পিবিআই প্রায় চার মাস তদন্ত করে একটি অভিযোগপত্র দিয়েছে। তবে অভিযোগপত্রে কী আছে, তা তারা জানেন না। এর মধ্যেই আবার বাড়িটিতে হামলা ও দখলের চেষ্টা করা হলো বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন জানিয়ে মনির হোসেন বলেন, এখন কী করবেন এবং কার কাছে সাহায্য চাইবেন, তা বুঝতে পারছেন না।

সূত্র: প্রথম আলো

ইত্তেফাক/এসজে