গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন স্টেশনে নেই পর্যাপ্ত বাতি। এতে রাতে থাকে আলো-আঁধারির খেলা। এছাড়া প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বিশ্রামাগার দুটি থাকে তালাবদ্ধ। এতে রাতে ভ্রমণকারী ট্রেনযাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। হঠাত্ কোনো সময় রাতে দ্বিতীয় শ্রেণির বিশ্রামাগারটি খোলা থাকলেও নোংরা ও দুর্গন্ধে যাত্রীরা বিশ্রামাগার ব্যবহার করতে চান না। এজন্য সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় নারী যাত্রীদের।
গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশন হয়ে প্রতিদিন ঢাকা-জারিয়া, ঢাকা-মোহনগঞ্জ, ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম—এই তিন রুটে আন্তঃনগর, মেইল, কমিউটার ও লোকালসহ ৩২টি ট্রেন চলাচল করে। এসব ট্রেনে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করে। কিন্তু রাতে বিশ্রামাগার বন্ধ থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আলো-আঁধারির মাঝে বসে থাকতে হয় এখানে-সেখানে।
সরেজমিনে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনে দেখা গেছে, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বিশ্রামাগার দুটি তালাবদ্ধ। ট্রেনযাত্রীরা প্লাটফরমের বিভিন্ন জায়গায় অন্ধকারে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে আছেন। অনেক যাত্রী টিকিট কাউন্টারের সামনে নোংরা মেঝেতে কাঁথা কিংবা চাদর বিছিয়ে শুয়ে আছেন। কিছু যাত্রী বসার জায়গা না পেয়ে মালপত্র নিয়ে পায়চারি করছেন। ট্রেন না আসা পর্যন্ত এভাবেই অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ট্রেনযাত্রীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী যাত্রী বলেন, বিশ্রামাগার বন্ধ থাকায় রাতে প্রাকৃতিক কাজ সারতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাধ্য হয়েই এখন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে অন্ধকারে বসে আছি। গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ফকির বলেন, বিশ্রামাগার বন্ধ থাকায় যাত্রীরা মালপত্র নিয়ে বাইরে আশ্রয় নেওয়ায় স্টেশনে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। নারী যাত্রীরা বখাটেদের উত্পাতের শিকার হচ্ছে। এতে করে এই স্টেশনে যাত্রীসেবার মান দিন দিন কমে যাচ্ছে। সেবার মান বাড়াতে চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার আব্দুর রশিদের মুঠোফোনে চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনে রাতের শিফটের স্টেশনের বুকিং সহকারী রাজিব জানান, প্রথম শ্রেণির বিশ্রামাগার বন্ধ থাকলেও দ্বিতীয় শ্রেণির বিশ্রামাগার খোলা থাকার কথা। কিন্তু কেন বন্ধ বলতে পারছি না।
