ট্রাইব্যুনালে জুলাইযোদ্ধার সাক্ষ্য

‘ছাত্ররা মাঠে নামলেই গুলি করে মেরে ফেলা হবে’

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩০

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমনে ‘ছাত্ররা মাঠে নামলেই গুলি করে মেরে ফেলা হবে’—এমন পৈশাচিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন মো. হান্নান মিয়া নামের এক জুলাইযোদ্ধা। ট্রাইব্যুনালে আসামিদের বিরুদ্ধে দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি বাড্ডায় আন্দোলন দমনে চালানো নির্মমতার লোমহর্ষক বর্ণনা তুলে ধরেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্য রেকর্ড করা হয়। প্যানেলের প্রধান ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং সদস্য হিসেবে ছিলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এই মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম। প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে বিভিন্ন উসকানি দেন এই দুই নেতা। ১৪ দলের শীর্ষ পদে থেকে মারণাস্ত্র ব্যবহার ও কারফিউ জারির প্ররোচনা দেওয়ায় তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের কারণে শুধু রাজধানীর বাড্ডা ও আশপাশেই ২৩ জন নিহত হন।

পেশায় ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক এবং সরকার গেজেটভুক্ত ‘খ’ শ্রেণির জুলাইযোদ্ধা মো. হান্নান মিয়া ট্রাইব্যুনালে জানান, গত বছরের ১৫ জুলাই থেকে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্ত হন। ১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্বিচারে গুলিতে বহু মানুষ হতাহত হন।

তিনি সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন, ১৯ জুলাই সন্ধ্যার পর টেলিভিশনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ১৪ দলের নেতাদের বৈঠক দেখতে পান। ওই বৈঠকে রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের কারফিউ জারির ঘোষণা দিয়ে বলেন, ছাত্ররা মাঠে নামলেই গুলি করে মেরে ফেলা হবে—যে নির্দেশের পূর্ণ সমর্থন করেছিলেন মেনন ও কামরুল।

সাক্ষ্যে হান্নান জানান, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ‘লংমার্চে’ অংশ নেওয়ার সময় রামপুরা সেতুর দিক থেকে চালানো গুলিতে তার পায়ে গুলি লাগে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের লোকজনের এলোপাতাড়ি মারধরে তার মাথা ফেটে যায় এবং বাঁ কাঁধের হাড় ভেঙে যায়। পরে আন্দোলনকারীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সাক্ষ্য শেষে জুলাইযোদ্ধা হান্নান মিয়া শেখ হাসিনা, কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননসহ সব হত্যা-নির্যাতনকারীর দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ, মিজানুল ইসলাম, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্য প্রসিকিউটররা।

 
ইত্তেফাক/এএম