সাগরে আছড়ে পড়ল ৪০ তলা ভবনের সমান স্টারশিপ রকেট

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৫

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স তাদের ১৪তম পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে ৪০ তলা ভবনের সমান বিশালাকার স্টারশিপ রকেট প্রথমবারের মতো কক্ষপথে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। তবে একটি ইঞ্জিনের ত্রুটির কারণে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রকেটটি প্রশান্ত মহাসাগরে আছড়ে পড়ে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের কাছে মেক্সিকো উপসাগরের স্টারবেস কমপ্লেক্স থেকে উড্ডয়ন করা রকেটটির মূল লক্ষ্য ছিল কক্ষপথে নতুন স্যাটেলাইট স্থাপন করা। একটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার জটিলতা কাটিয়ে পরবর্তীতে অন্যান্য ইঞ্জিনের সহায়তায় রকেটটি মহাকাশের ২৬৯ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছায় এবং সফলভাবে ২৬টি স্টারলিংক ভি৩ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে।

স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ নিশ্চিত করেছেন, সবকটি স্টারলিংক ভি৩ বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট লক্ষ্যমাত্রার কক্ষপথে সঠিকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। এটি ছিল স্টারশিপের প্রথম অর্থ উপার্জনকারী বাণিজ্যিক ফ্লাইট। একু পার্টস কম্পোনেন্টসের কোয়ালিটি ম্যানেজার ডিন স্ল্যাডেন এই সাফল্যকে বড় জয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

মিশন শেষে প্রশান্ত মহাসাগরে নিয়ন্ত্রিত অবতরণের সময় থ্রাস্টার চালিত কৌশলে যানটিকে সোজা করা হলেও সমুদ্রের স্পর্শে আসার পর সেখানে একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে ও আগুন ধরে যায়। প্রতিষ্ঠানটি আগে থেকেই সমুদ্র থেকে রকেটটি উদ্ধার বা পুনরায় ব্যবহারের পরিকল্পনা করেনি। নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান সুরক্ষিত ও দায়িত্বশীল উপায়ে এই সফলতার জন্য স্পেসএক্সকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই উৎক্ষেপণে স্পেসএক্সের শেয়ার ২ শতাংশ কমেছে, যদিও প্রতিষ্ঠানের বাজারমূল্য বর্তমানে ২ ট্রিলিয়ন ডলারে রয়েছে। নতুন প্রযুক্তির এই ভি৩ স্যাটেলাইটগুলো পূর্বের তুলনায় ১০ গুণ বেশি ডেটা প্রক্রিয়াজাত করতে পারে। ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এ উন্নয়ন অভিযানে ১৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছে স্পেসএক্স।

সূত্র: রয়টার্স

ইত্তেফাক/টিএইচ