মুন্সিগঞ্জে বাশার গাজী হত্যা: মানববন্ধন শেষে আসামিদের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৬

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে ভ্যানচালক বাশার গাজী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন শেষে গ্রেপ্তার আসামিদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মুন্সিগঞ্জের সীমানা সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের শাহ আলী বাজারে স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতদের পরিবারের ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন কর্মসূচি। এরপর বিক্ষুব্ধরা মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বেতকা ইউনিয়নের মামুদাতপুর এলাকায় গ্রেপ্তারকৃত ৩ আসামি কাউসার মোল্লা, শামীম শেখ ও রাজনের বাড়িঘরে কয়েক দফা হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

পিবিআই ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে টঙ্গীবাড়ির মামুদাদপুরে নিজ বাড়িতে অটোভ্যান চালক বাশার গাজীকে হত্যা করা হয় বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে। পরে তার মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পিবিআই।

এ ঘটনার পর মুন্সিগঞ্জ পিবিআইয়ের একই টিম ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শামীম শেখ, রাজন ও কাউসার মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী চোরাই অটোভ্যান উদ্ধার করা হয়। পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার তিন আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ঘটনা সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ও হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

এদিকে, আসামিদের ঘরবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এর আগে মানববন্ধনে বক্তারা বাশার গাজী হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। পরে কর্মসূচি শেষে একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বেতকা ইউনিয়নের মামুদাদপুর এলাকায় প্রথমে গ্রেপ্তার আসামি কাউসার মোল্লার দুটি বসতঘরে ভাঙচুর চালায়। এরপর বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গিয়ে নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ইউনিয়নের তৈলখিলা এলাকায় গ্রেপ্তার অপর দুই আসামি শামীম শেখ ও মো. রাজনের বাড়িঘরেও ভাঙচুর করা হয়।

টঙ্গীবাড়ি থানার (ওসি তদন্ত) কাজী মাসুদ রানা জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সদস্যরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ইত্তেফাক/আরএইচ