অর্থায়ন সংকটে ৮৩ লাখ শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষ: ইউএনএইচসিআর

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৩৬

দাতাদের অর্থায়ন কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮৩ লাখ শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষ জরুরি সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চলা অর্থায়ন সংকটের কারণে শরণার্থী, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ও রাষ্ট্রহীন মানুষের সুরক্ষা ও সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা ক্রমেই কমে আসছে।

ইউএনএইচসিআর জানায়, ২০২৪ সালে তারা ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার অনুদান পেয়েছিল। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে, সহায়তার প্রয়োজন এমন মানুষের সংখ্যা বর্তমানে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।

চলতি বছর শরণার্থীদের সুরক্ষা ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনায় ইউএনএইচসিআরের প্রয়োজন ছিল অন্তত ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু জুলাই পর্যন্ত সংস্থাটি পেয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, যা প্রয়োজনীয় অর্থের ৩২ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে প্রায় ৮৩ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ ইউএনএইচসিআরের সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

 সংস্থাটি বলেছে, অর্থায়ন কমতে থাকায় বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শরণার্থী এলাকাগুলোতে সহায়তা ও সুরক্ষামূলক কার্যক্রম ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। জরুরি কার্যক্রম সচল রাখতে বিভিন্ন সংস্কার ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অর্থের ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় এর প্রভাব ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে পড়ছে।

ইউএনএইচসিআরের এক্সটারনাল রিলেশনস বিভাগের প্রধান ডমিনিক হাইড বলেন, সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে গেলে তা ধীরে ধীরে নয়, পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে শুধু কমসংখ্যক মানুষ সেবা পাবেন না, বরং গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা কার্যক্রমই বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষগুলো প্রয়োজনীয় সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

ইত্তেফাক/এমএএম